আপনি কি ঘি (Ghee) খেতে খুব পছন্দ করেন? এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা গরম ভাতে এক চামচ ঘি আর একটু নুন এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে এক থালা ভাত খেয়ে নিতে পারেন। ঘি তাঁদের এতটাই প্রিয়। অতটা প্রিয় না হলেও, অনেকেই ঘি খেতে খুবই পছন্দ করে থাকে। আর অনেক মানুষেরই ধারণা, ঘি খেলেই বুঝি ওজন বেড়ে যায়!

এই ধারণা সম্পূর্ণ কিন্তু ভুল নয়। আবার এটাও ঠিক যে, একাধিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘি সঠিক পদ্ধতি মেনে নিয়মিত খেলে কিন্তু ওজন বাড়বে না। বরং হবে উল্টোটা। অর্থাত, ওজন কমবে। দেখে নিন, ঘি থেকে আমরা আর কী কী উপকার পাই। খালি পেটে ঘি খেতে পারলে শরীরে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। ফলে হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

ঘি-এ রয়েছে কে ২ এবং সিএলএ নামক দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এই দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানগুলোকে শরীর থেকে বের করে দিয়ে ক্যান্সারের সম্ভবনাও কমিয়ে দেয়। খালি পেটে নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘি খেতে পারলে শরীরে বিশেষ কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে যা অস্থিসন্ধির সচলতা বাড়িয়ে তোলে এবং একই সঙ্গে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটায়। ফলে হাড়ের যে কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। প্রতিদিন খালি পেটে ঘি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ত্বকের কোলাজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, ঘিতে থাকা মিডিয়াম চেন ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে জমে থাকা ফ্যাট সেল গলাতে সাহায্য করে। বিষেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২ চামচ ঘি খালি পেটে খেতে পারলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ২-৩ চামচ ঘি ভাত বা রুটির সঙ্গে খেতে পারলে বাড়ে হজম শক্তিও। খাবার সময় ২-৩ চামচ ঘি খাওয়ার অভ্যাস পরিপাকতন্ত্রকে চর্বিমুক্ত করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকেও নির্মূল করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও অ্যালার্জি প্রতিরোধে, সর্দি-কাশির কষ্ট কমাতে ঘি অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়াও স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধিতেও ঘি অত্যন্ত কার্যকরী। তাই এবার থেকে নিশ্চিন্তে ঘি খান। তবে, নির্দিষ্ট পরিমাণে। ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে। অনেক উপকার পাবেন। দুধে ভাতে থাকার মতোই থাকুন, ঘি ভাতে।


No comments so far.

Leave a Reply