হালুয়া তৈরির রেসেপি

হালুয়া এক ধরনের মিষ্টান্ন। হালুয়া কম বেশি আমাদের সকলের কাছে প্রিয় । আসছে শবে বরাত। আর শবে বরাতের দিন আমরা  নানা রকম হালুয়া অনেকেই বাড়িতে বানিয়ে থাকি।  অনেকেই সুজি, বুট, গাজর, ডিম, বাদাম, পেঁপে, চালকুমড়া, নেসেস্তাসহ হরেক রকমের উপকরণ দিয়েই বৈচিত্র্যময় স্বাদের হালুয়া তৈরি করা যায়। কয়েকটি হালুয়া তৈরির রেসেপি জানবো আজ ।

১) কমলার হালুয়া

উপকরণ:

কমলার রস– হাফ  কাপ, কর্ন ফ্লাওয়ার- হাফ  কাপ, চিনি- ১ থেকে দেড়  কাপ অথবা স্বাদমতো, লেবুর রস- ১-২ চা চামচ, কমলা ফুড কালার- ১ চিমটি, ঘি- ৪-৫ টেবিল চামচ, এলাচের গুঁড়া- সিকি চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে কমলার রস ছেকে নিন। কর্ন ফ্লাওয়ারের সাথে  মিশিয়ে নিন কমলার রস। চুলায় হালকা  আঁচে হাঁড়ি বসিয়ে চিনি ও হাফ কাপ পানি ঢেলে দিন। চিনি গলে গেলে লেবুর রস দিয়ে দিন । এবার কমলার রস ও কর্ন ফ্লাওয়ারের মিশ্রণ ঢেলে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। একটানা  নাড়তে হবে। কয়েক মিনিট পর ফুড কালার দিয়ে দিন। মিশ্রণটি যখন  ঘন হয়ে আসবে তখন  ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নাড়তে থাকুন। ভালো মতো মিশে গেলে আবার  ১ টেবিল চামচ ঘি দিন। এভাবে ৪-৫  টেবিল চামচ ঘি মিশিয়ে নিন হালুয়ায়। হালুয়ার রঙ স্বচ্ছ হয়ে গেলে এবার এলাচের গুঁড়া দিয়ে নাড়ুন। যে পাত্রে  রাখবেন সেখানে অল্প ঘি মিশিয়ে হালুয়া রেখে চেপে চেপে সমান করুন উপরের অংশ। কাঠবাদাম কুচি কুচি কেটে  ছিটিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন রুম টেম্পারেচারে। হালুয়া জমে গেলে এবার ইচ্ছা মত কেটে রেখে দিন ।

২) ডিমের শাহী হালুয়া

উপকরণ:

 

ডিম ৪-৫  টি, চিনি ১থেকে দেড়  কাপ, ফ্রেস ক্রিম ১-২  টা, বাটার ১০০-২০০  গ্রাম, ছানা ১ কাপ, দারুচিনি ১-২  টুকরা, এলাচি ২ টা এবং জাফরান রং সামান্য দুধে মেশানো।

প্রণালি:

প্রথমে ডিম ও চিনি ভালোকরে  মিশিয়ে নিতে হবে হ্যান্ড বিটার দিয়ে। এবার একটি পাত্রে  বাটার দিয়ে দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে নিন। এখন কিছুক্ষণ পর ডিমের মিশ্রণ, ছানা এবং ক্রিম দিয়ে এমনভাবে নাড়তে হবে এক টানা  যেন কড়াইতে লেগে না যায়। তারপর  হালুয়ার মতো হয়ে বাটার উপরে উঠে আসলে জর্দার রং দিয়ে নাড়ুন। এবার একটি পাত্রে  নামিয়ে পরিবেশন করুন ডিমের শাহী হালুয়া।

৩) সুজির চকলেট হালুয়া রেসিপি 

উপকরণঃ

– সুজি ১/২ কাপ,

– চিনি পরিমাণমতো,

– ঘি ২ কাপ বা তার বেশি ,

– কোকো পাউডার ২-৩  টেবিল চামচ,

– চকলেট সিরাপ ১-২  টেবিল চামচ,

– দারুচিনি,

– এলাচ গুঁড়া,

– কিসমিস,

– কাঠবাদাম,

– কাজুবাদাম,

– পেস্তা বাদাম,

– পানি ১-২ কাপ (গরম পানি),

– লবণ স্বাদ মত ।

প্রণালীঃ

প্রথমে একটি কড়াইতে ঘি গরম করে সুজি দিয়ে ভাজতে থাকুন । সুজি ভাজা হয়ে গেলে তার মধ্যে  কোকো পাউডার, এলাচ, দারুচিনি, চিনি, চকলেট সিরাপ ও পানি দিয়ে ভালো ভাবে নাড়তে থাকুন।

তারপর কিসমিস, বাদাম দিন। পানি শুকিয়ে এলে দেখতে পাবেন  তেল উপরে ভেসে উঠেছে তখন  চুলা থেকে নামান। ঠান্ডা হলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।মজাদার সুজির চকলেট হালুয়া।

 

Similar Posts

  • মিষ্টিকুমড়ার লাড্ডু।

    এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে লাড্ডু খেতে পছন্দ করেন না। অনেককেই দেখা যায় প্রায়ই তারা বাইরে থেকে বিভিন্ন পদের লাড্ডু কিনে নিয়ে আসে বাসায় । একেক লাড্ডুর স্বাদ একেক রকম হয় । প্রতিটিই খুব সুস্বাদু। মতিচুর, বোহান্দি, বেসন, সুজি, ডালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় লাড্ডু। আবার অনেকেই সবজি দিয়েও তৈরি করে…

  • |

    ভেজ নারিকেল ডাম্পলিং

    ভেজ নারিকেল ডাম্পলিং ভেজ নারিকেল ডামপ্লিং খাবার টির নাম শুনেই  মনে হচ্ছে আলাদা ধরনের ও ভিন্ন  স্বাদের কিছু একটা ।  নারিকেলের বরফি , নারিকেলের পিঠা , নারিকেল দিয়ে  তৈরি পায়েস আমরা তো সব সময়ই খেয়ে থাকি তাই মাঝে মাঝে একটু ভিন্নধর্মী খাবার ভালই লাগে  ।  গাজর , নারিকেল , ময়দা এক সাথে করে তৈরি করা…

  • যুগলবন্দী

    উপকরণ: ছানা ২ কাপ, ক্ষীর ১ কাপ, মাওয়া আধা কাপ, খেজুরবাটা আধা কাপ, আমন্ড বাদামবাটা আধা কাপ, গোলাপ এসেন্স সামান্য, গুঁড়া চিনি দেড় কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, এলাচগুঁড়া আধা চা-চামচ, পেস্তাবাদামের কুচি আধা কাপ।   প্রণালি: এক কাপ ছানা, পৌনে এক কাপ গুঁড়া চিনি, গোলাপ এসেন্স একসঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। ছানার পানি শুকিয়ে…

  • |

    মজাদার কুনাফা

    কুনাফা একটি ব্যতিক্রম ধর্মী মিষ্টিজাতীয় খাবার।মিষ্টিজাতীয় খাবারের ভেতরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুনাফা। সেমাই দিয়ে তৈরি মজাদার এ খাবারটি বিভিন্ন উৎসব ছাড়াও পরিবেশন করা যায় অতিথি আপ্যায়নে কিংবা ঘরোয়া আড্ডায়। ঝটপট তৈরি করা যায় বলে যে কেউ এটি তৈরি করতে পারবেন। উপকরণ : লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট, মাখন সিকি কাপ (গলানো), তরল দুধ সিকি…

  • |

    কালাকান্দ

    কালাকান্দ মিষ্টি খাওয়ার জন্য কোন বিশেষ সময় মানে না । যদিও উৎসবেই মিষ্টি খাওয়াটা  বেশি হয়ে থাকে ।  মিষ্টি যেহেতু সবাই পছন্দ করে খেতে চায় তাই একটি অন্য রকম মিষ্টির  কথা নিয়ে  হাজির  হয়েছি ।   মিষ্টি টির নাম কালাকান্দ নাম একটু কেমন কেমন মনে হচ্ছে  কিন্তু এটি খেতে দারুন মজা । কালাকান্দ তৈরি করা হয়…

  • |

    দধি সেমাই

    দধি সেমাই মিস্টান্ন খাবারের মধ্যে দধি খুবই মজার যা খাবার  হজম করতে সাহায্য করে । যে কোন অনুষ্ঠানে বা বিয়ে বাড়িতে দধির প্রচলন এখনো দেখা যায়। গরমে এর চাহিদা অনেক থাকে । সেমাই আমাদের একটি অন্যতম মিস্টিজাত যা সব সময়ই খাওয়া হয়ে থাকে । যে কোন অনুষ্ঠানে বা বিকাল ও সকালের নাস্তায় এটি  থাকে ।…

Leave a Reply