কিসমিসের যত গুন

কিসমিসের গুনাগুণ

আমরা সকলেই খুব ভালো করে চিনি। যে কোনো মিষ্টি খাবারের স্বাদ এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজেই আমরা কিশমিশ ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও অনেকে পোলাও, কোরমা এবং অন্যান্য অনেক খাবারে কিশমিশ ব্যবহার করেন। রান্নার কাজে ব্যবহার করলেও আমরা কিশমিশ সাধারণ ভাবে খাই না। অনেকে তো ভাবেন এমনি কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এই কথাটি আসলে সত্যি নয়।

প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। আমরা সাধারনত উৎসব বা অনুষ্ঠানের রান্নায় কিশমিশ ব্যবহার করি। এছাড়া কেউ কিশমিশ খাই না। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনই কিশমিশ খাওয়া উচিৎ। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার কার্যকর কিছু কারন।

দেহে শক্তি সরবরাহ করে

যদি দুর্বলতা অনুভব করেন তাহলে দেরি না করে কিছু কিশমিশ খেয়ে নিন। কিশমিশে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ তা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার দেহে এনার্জি সরবরাহ করবে। (ডায়বেটিসের রোগীদের জন্য প্রযোজ্য নয়)।

দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষায় কিশমিশ

বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু বাচ্চাদের ক্যান্ডি বা চকলেটের পরিবর্তে কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করালে দাঁতের সুরক্ষা হবে। অনেকে ভাবতে পারেন কিশমিশে তো চিনি রয়েছে। কিন্তু চিনি থাকার পাশাপাশি কিশমিশে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয়।

হাড়ের যত্নে কিশমিশ

কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিশমিশে আরও রয়েছে বোরন নামক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস যা হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে।

ইনফেকশন হতে বাঁধা প্রদান করে

কিশমিশের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা কাঁটা ছেড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা দূরে রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহের কোষগুলোকে ফ্রি র্যা ডিক্যাল ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন হওয়ায় বাঁধা প্রদান করে। কিশমিশে আরও রয়েছে ক্যাটেচিন যা পলিফেনলিক অ্যাসিড, এটি আমাদের ক্যান্সার মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।

Similar Posts

  • কিসমিসের যত উপকারিতা

    আমাদের দেশে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরিতে কিশমিশ ব্যবহৃত হয়। তবে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না মহাগুণধর এই পণ্যটিকে। কিশমিশ নিয়ে আবার অনেকের ভুল ধারণাও রয়েছে। অথচ এটি আমাদরে শরীরের জন্য খুবই উপকারি উপাদান। তাই প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেই কিশমিশের গুণাগুণ। তবে ডা য়াবেটিস রোগীদের জন্য কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস...
  • |

    গুণে ভরা রসুন

    রসুন একটি মসলা জাতীয় খাদ্য উপাদান। রান্নার মসলা হিসেবে রসুনের ব্যবহার সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসছে। রান্নায় স্বাদকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু নয়, রসুনের পুষ্টিগুণ রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে মসলার অন্যতম তালিকার মধ্যে। তাই রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভাল রাখার ঔধষ হিসেবেও কাজ করে। অনেক বছর আগে থেকে রসুন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি...
  • দারুচিনির যত গুণ

    আজ আমাদের আলোচনার বিষয় দারুচিনির যত গুণ! দারুচিনি, এর ইংরেজি নাম: Cinnamon,এবং  বৈজ্ঞানিক নাম: Cinnamomus Zeylanicum) এটি  একটি মসলা গাছ এর  নাম। নরমাল  পরিবেশে এই গাছ এর  উচ্চতা দশ থেকে পনের মিটার পর্য্যন্ত হয়ে থাকে। এটি আদি বাসস্থান  শ্রীলংকায়। আজ কাল বেশির ভাগ  ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন প্রভৃতি দেশে ও উৎপাদিত হচ্ছে। দেখতে কিছুটা তেজপাতা গাছ  মতো, এই গাছ  চামড়াটা মসলা…

  • লবন লবন ভালোবাসা

    লবন লবন ভালোবাসা! লিখেছেন- হাফিজ রহমান এক দেশে একটা রাজা ছিল সব রাজাদেরই দুইটা বউ থাকে এইরাজারও ছিল সুয়োরানী আর দুয়োরানী, সব রানীদের একটি কইরা রাজকইন্যা থাকে এই রানীদেরও ছিল, আর সব রাজকইন্যাদেরই সর্বগুণে গুনান্বিতা হইতে হয় এরাও ছিল! রাজা ভাবল একটা ভালোবাসা ‘টেস’ করতে হয় কোন রাজকইন্যা তারে বেশী ভালবাসে! ডাইক্যা পাঠাইল দুই রাজকইন্যারে…

  • মসলার উপকারিতা

    রান্নার একটা গুরুত্ব পূর্ন দিক হচ্ছে মশলা পাতি। মশলাপাতির কারণেই এক এক রান্না এক এক রকমের স্বাদ ও ঘ্রাণের হয়ে থাকে। কাজে কাজেই যারা রান্নায় বিশেষ পারদর্শীতা অর্জন করতে চাইবে তাদের জন্য মশলা পাতি চেনা এবং তার সুষ্ট ব্যবহার করা একটা গুরুত্ব দিক হবে। যারা রান্না করেন তাদের মনে রাখতে হবে মশলার উলটা পালটা ব্যবহারে…

  • |

    সরিষায় ভূত না ভুতে সরিষা!

    নানা ব্রান্ডের সরিষার তেলে নানা রকমের কেমিক্যাল!   কাকে রেখে কাকে বিশ্বাস করবেন? সরিষায় ভূত না ভুতে সরিষা!    আমি বলছিনা আমাদের বিশ্বাস করতেই হবে তবে আমরা চেষ্টা করি শতভাগ বিশুদ্ধ পণ্য সরবরাহ করতে।   কিভাবে তৈরি করিঃ পাইকারি বাজার থেকে সরিষা কিনে সেটা পরিষ্কার করে পানিতে ধুয়ে নেওয়া হয়। এর পর রোদে শুকিয়ে তেল…