যে কারণে সবার মাছ খাওয়া উচিত

প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য আমাদের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। একজন মানুষের সারাদিনের ক্যালরি চাহিদার ২০-৩০% প্রোটিন জাতীয় খাদ্য থেকে আসা উচিত। অনেকেই ভাবেন, প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্যের ভাল উৎস মানেই কেবল মাংস। অথচ মাছ থেকে যে মাংসের সমান পুষ্টি পাওয়া যেতে পারে,অনেকে হয়ত এই ধারনাটি মানতে চান না।মাংস এবং মাছ দুটোই হল প্রথম শ্রেণীর আমিষ জাতীয় খাদ্যের উৎস। বরং মাংস খাওয়ার চেয়ে মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। তাই,আমাদের দেশে নানারকম মাছ পাওয়া যায়। পুঁটি, ট্যাংরা, শোল, টাকি, রুই, কাতলা, কই, ইলিশ, বাইন প্রভৃতি মাছ পাওয়া যায়।পাশাপাশি,সামুদ্রিক মাছ এবং চাষের মাছও আছে। আমদের দেশে প্রোটিনের চাহিদা পূরনে মাছের অবদান অনেক খানি।তবে,অনেকেই কাটার ভঁয়ে মাছ খেতে চান না।অথবা মাছের গন্ধে মাছ খেতে চান না।কিন্তু স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির কথা চিন্তা করলে মাছ বাদ দেয়ার কোন সুযোগ নেই।শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জন্য মাছ সমান পুষ্টিকর। মাছে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন-ডি,ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড,ভিটামিন-এ,সেলেনিয়াম,অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।

 

  • সঙ্গত কারণে নিয়মিত মাছ খাওয়ার সাথে হার্টের সুসাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে।মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ যা আমাদের হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য জরুরি।সপ্তাহে অন্তত ১ সারভিং ফ্যাটি ফিস রাখলে হৃদ রোগের ঝুঁকি অনেক খানি কমে যায়।
  • নিয়মিত মাছ খেলে দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়।মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মেটাবলিজম বাড়াতে এবং দৃষ্টি শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • মাছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন-ডি থাকে।তাই,যারা ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগছেন তারা নিয়মিত মাছ খেতে পারেন।আমাদের,দেশের শিশুরা প্রায়ই ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগে থাকে।তাই ছোট বেলা থেকে যদি শিশুদের মাছ খাওয়ানোর অভ্যাস করানো যায় তবে,ভিটামিন-ডি এর অভাব অনেক খানি পূরণ করা সম্ভব।

 

  • নিয়মিত মাছ খেলে থাইরয়েড ফাংশন খুব ভাল থাকে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত নিয়মিত মাছ খাওয়া।মাছে থাকা সেলেনিয়াম থাইরয়েড ফাংশনকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • গর্ভবতী মায়েদের জন্যও মাছ খুব জরুরি।গর্ভস্থ ভ্রুনের চোখ এবং ব্রেন ডেভেলপমেন্টের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তবে,গর্ভবস্থায় অবশ্যয় সামুদ্রিক মাছ পরিহার করতে হবে।
  • নিয়মিত মাছ খেলে মেমরি ভাল থাকে।তাই,যারা,প্রায়ই ভুলে যান তারা মাছ খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
  • যারা খাদ্য তালিকায় নিয়মিত মাছ রাখেন তাদের অটোইমিউন ডিজিস যেমন : ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
  • মাছে থাকা ভিটামিন ডি গভীর ঘুম এবং ওজন কমানোর জন্য জরুরি।যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে এবং ওজন কমাতে সমস্যা হচ্ছে তারা সপ্তাহে অন্তত ৩ সারভিং মাছ খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।
  • ছোট মাছে উচ্চ পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে।যা,হাড়ের গঠনের জন্য ভীষণ দরকারি। সুতরাং,শক্তিশালী হাড় গঠনের জন্য ছোট শিশুদের নিয়মিত ছোট মাছ খাওয়ানো উচিত।
  • মাছের পুষ্টিগুণ বজায় রাখার জন্য মাছ অতিরিক্ত ভাঁজা উচিত নয়। গ্রিল,স্টিম বা হালকা ভেজে খেলে মাছের পুষ্টিগুণ বজায় রাখা যায়।
  • অনেক সময় রান্না করার পরও মাছের গন্ধ থেকে যায় বলে অনেকে মাছ খেতে চাননা। তাই,রান্নার পূর্বে মাছে কিছুটা লেবুর রস এবং লবণ দিয়ে ৫-১০ মিনিট মাখিয়ে রেখে পরে খুব ভালভাবে ধুয়ে নিলে এই উৎকট গন্ধ আর থাকবে না।
  • যারা ওজন কমাতে চান তারা নিয়মিত ফিস এন্ড ভেজিটেবল স্যুপ খেতে পারেন। এতে পুষ্টি চাহিদা এবং ক্ষুধা দুইই দূর হবে এবং ওজন দ্রুত কমবে।
  • যারা,একই ধরণের মাছ রান্না খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গেছেন,তারা মাঝে মাঝে মাছের কাবাব,কাটলেট বা ফিস ফিংগার করে খেতে পারেন।

 

Similar Posts

  • নিমে নিরাময় ২২টি রোগের!

    নিম  প্রায় সবার কাছে পরিচিত গাছ। বিশেষ করে গ্রাম-বাংলায় নিম গাছ বেশি দেখা যায়। ভেষজ চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার বহুল। নিম গাছের ভয়ে এইডস্ কাঁপে  – হ্যাঁ কথাটি ঠিকই পড়ছেন, নিম পাতা এইডস্ এর ভাইরাসকে মেরে ফেলতে অনেক সাহায্য করে থাকে। যদি বাড়িতে একটি নিমগাছ থাকে একজন ডাক্তারের চেয়ে ও বেশী কাজ করে। নিম (বৈজ্ঞানিক নাম: AZADIRACHTA INDICA) ঔষধি গাছ যার ডাল, পাতা, রস, ফুল, ফল, তেল, বাকল, শিকড় সবই উপকারী। নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ। আকৃতিতে ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ডাল ২০-৩০ ইঞ্চি ব্যাস হতে পারে। ডালের চারদিকে ১০-১২ ইঞ্চি যৌগিক পাতা জন্মে। পত্র কাস্তের মত বাকানো থাকে এবং পাতায় ১০-২০ টি করে কিনারা খাঁজকাটা পত্রক থাকে। পাতা ২.৫-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। নিম গাছে এক ধরনের ফল হয়। আঙুরের মতো দেখতে এ ফলের একটিই বিচি থাকে। জুন-জুলাইতে ফল পাকে, ফল তেতো স্বাদের। বাংলাদেশের সবত্রই জন্মে তবে উত্তরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিমপাতার অসাধারণ গুনাবলী নিমগাছের বাকল ও শিকড় ঔষধি গুণসম্পন্ন। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। চামড়ার ইনফেকশন রোধে এছাড়া ব্রুণ, চুলকানি ও এলার্জি রোধে নিমপাতা অনেক উপকারি। এছাড়া শরীরের ব্যাথা, কান ব্যাথা, কেঁটে গেলে, পুড়ে গেলে, মচকানো, মাথা ব্যাথা, জ্বর কমাতে নিমপাতা ব্যবহার করলে  উপকার পাওয়া যায়। নিমে যে ২২টি রোগের নিরাময় হয়: ১. খোস পাচড়া বা চুলকানি নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই জল দিয়ে স্নান করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়। পাতা ভেজে গুড়া করে সরিষার তেলের সাথে মিষিয়ে চুলকানিতে লাগালে যাদুর মতো কাজ…

  • নিয়মিত হাঁটার উপকারিতা

    প্রতিটা মানুষের সুস্থ থাকার জন্য  নিয়মিত হাঁটা দরকার। প্রতিদিন হাঁটলে হৃদস্পন্দন ভালো  থাকে। হাঁটলে  রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরের বাজে  কোলেস্টেরল দূর করে ও ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় । আজকাল সারাদিন আমরা সবাই এত ব্যস্ত থাকি যে নিজের জন্য সময় বের করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।   ফলে দিন দিন আমাদের ভিতরের সত্বা মরে গিয়ে আমরা অলস…

  • ডায়বেটিসের রোগীদের কিছু ক্ষতিকর খাবার

    ডায়বেটিসের সমস্যা ইদানীং অনেক বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতি ঘরেই ডায়াবিটিসের রোগী দেখা যায়। ডায়বেটিস রোগীদের অনেক বেশি সাবধানতা প্রয়োজন। কিছু খাবার খাওয়া ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। আসুন জেনে নেয়া যাক এমনই কিছু ক্ষতিকর খাবার সম্পর্কে। ১. সাদা চাল সাদা চালের ভাত যতো বেশি খাওয়া হয় ততো বেশি টাইপ-২ ডায়াবিটিসের আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রায়…

  • ধুলাবালি থেকে অ্যালার্জি প্রতিরোধে যা করণীয়

    অনেকেরই ধুলাবালি থেকে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। তাদের পথে ঘাটে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। কারণ, ধুলাবালি কোনও রকমে নাকে, মুখে ঢুকলেই শুরু হয়ে যায় হাঁচি, কাশি। ঘর বাড়ি পরিষ্কারের কাজে হাত দিলেও তারা একই সমস্যায় পড়েন। এমনকি অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকা কোনও ঘরে ঢুকলে বা পুরনো বইয়ের গ্রান নাকে গেলেও তাদের হাঁচি, কাশি শুরু…

  • তেজপাতার স্বাস্থ্য গুনাগুণ

    তেজপাতার ইংরেজি নাম-  Bay leaf এটা একধরনের অ্যাণ্টি- ইনফ্যাল্মটারী।তেজপাতা হচ্ছে  এক ধরনের সুগন্ধি মসলা এবং তেজ পাতা কাঁচা অবস্থায়  পাতার রং সবুজ। সবুজ পাতা শুনানো হলে তেজপাতার রঙ হয় বাদামি। তেজপাতায় রয়েছে ভিটামিন ‘E’ ও ‘C’।বহুকাল ধরেই তেজপাতা নিরাময়কারী ও ওষুধ ভেষজ পাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তেজপাতা কেবল খেলে বা ব্যবহার করলেই হবে না,…

  • |

    মসলা যখন ঔষধের কাজ করে!

    লবঙ্গ একটি অতি পরিচিত একটি মসলার নাম।  রান্নার সময় অনেকে ফোঁড়নে ব্যবহার করেন। গরম মশলার সাথেও লবঙ্গ থাকে। তা রান্নার স্বাদ বাড়ায়। লবঙ্গতে ২০-২৫ শতাংশ ক্লোভ তেল এবং ১০-১৫ শতাংশ টাইটার পেনিক এসিড থাকে। যার ফলে এটা খেতে ঝাঁজালো। এর আরেক নাম “লং”। আসুন জেনে নেই লবঙ্গের বিশেষ কিছু গুণ সম্পর্কে ব্যাথা নাশক  দাঁত ব্যথা…

Leave a Reply