বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ত্বক ক্রমেই আদ্রর্তা হারাবে, তাই বিশেষ যত্ন আত্তি না পেলেই দেখা দেবে বলিরেখা। বয়সের আগেই ত্বকে ভাঁজ পড়বে, তা কুঁচকে যেতেও পারে। আশার কথা হচ্ছে, সামান্য একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব। আসুন তা হলে আজ জেনে নিই এই শীতে কীভাবে নেবেন শুষ্ক ত্বকের বাড়তি যত্ন ঘরোয়া উপায়ে।

শীতকাল সঙ্গে নিয়ে আসে শুষ্কতা এবং রুক্ষতা। এসময় ত্বকের যত্নে চাই বাড়তি যত্ন। ত্বকের মরা চামড়া পরিষ্কার করতে ক্লিজিং ও স্ক্রাবিংয়ের প্রতি গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শীতে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও সতেজ।

শীতে শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য ত্বক স্বাভাবিক আদ্রর্তা দ্রুত হারিয়ে ফেলে। তাই শীতকালে গোসলে সাবান কম ব্যবহার করুন। আর করলেও ময়েশ্চারাইজিং সাবান ব্যবহার করুন। এতে ত্বকে খসখসে ভাব কমে আসবে।

রাতে ঘুমানোর আগে ও গোসলের পর নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে। ফলে চুলকানিও হবে না এবং ত্বকও ফাটবে না। ত্বকের আদ্রর্তা ও ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে রোজ গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল অথবা লিকুইড প্যারাফিন মাখতে পারেন। আপনার ত্বক যদি প্রাকৃতিকভাবেই শুষ্ক হয়, তা হলে কিন্তু আগামী কয়েকটা মাস আপনাকে একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, না হলে ত্বকের শুষ্কতা খুব ভোগাবে।

মনে রাখবেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ত্বক ক্রমেই আদ্রর্তা হারাবে, তাই বিশেষ যত্ন আত্তি না পেলেই দেখা দেবে বলিরেখা। বয়সের আগেই ত্বকে ভাঁজ পড়বে, তা কুঁচকে যেতেও পারে। আশার কথা হচ্ছে, সামান্য একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব। আসুন তা হলে আজ জেনে নিই এই শীতে কীভাবে নেবেন শুষ্ক ত্বকের বাড়তি যত্ন ঘরোয়া উপায়ে।

অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল সাধারণত সব ধরনের ত্বকের পক্ষেই খুব কাযর্কর। এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুধু আপনার মুখ নয়, পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নেয়। স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মুখে ও পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন। তার পর হালকা গরম পানিতে গোসল সেরে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চরাইজার। অলিভ অয়েল, ব্রাউন সুগার, আর মধু এমন অনুপাতে মিশিয়ে নিন যেন ঘন ক্রিমের মতো একটি উপাদান তৈরি হয়, তারপর হালকা হাতে সবাের্ঙ্গ মেখে নিন এই মিশ্রণটি। অল্প চাপ দিয়ে গোল গোল করে মালিশ করুন, এতে আপনার শরীরের সব মৃত কোষ উঠে যাবে। তার পর গোসল করে হালকা ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন।

অ্যালোভেরা : অ্যালোভেরা এমনই একটি উদ্ভিদ, যা টবে লাগালে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে। একটি অ্যালোভেরা পাতা নিন, মাঝখান থেকে কেটে ফেলুন সেটিকে।শাঁসটা বের করে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। জ্বালাভাব, চুলকানি মুহূতের্ কমে যাবে। সেরে যায় ছোটখাটো ইনফেকশনও। আদ্রর্তা জোগানোর পাশাপাশি এই শাঁস বা জেলের পরত আপনার ত্বকের ওপর তৈরি করে রাখে সুরক্ষার আবরণ, তাতে দূষণ আপনার ত্বকে কোনো ছাপ ফেলতে পারে না।

নারকেল তেল : মুখ ও শরীরের ত্বকের পাশাপাশি গোড়ালি, হাঁটু , কনুইয়েরও বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে শীতকালে। না হলে এগুলো রুক্ষ ও কালো হয়ে যায়। প্রথমে এই অংশের ত্বক ভিজিয়ে রাখুন পানিতে। ত্বক যখন কুঁচকে যাবে, তখন বুঝবেন যা যথেষ্ট আদ্রর্তা পেয়েছে। নারকেল তেল সাধারণত শীতকালে জমে যায়। জমা তেলের মোটা পরত লাগিয়ে নিন আর্দ্র ত্বকে। তার পর মোজা বা লম্বা হাতা টপ বা পাজামা পরে ঘুমোতে যান। টানা বেশ কয়েকদিন করলে নিজেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন।

কিছু টিপস : অতিরিক্ত গরম পানিতে বেশিক্ষণ ধরে গোসল করবেন না, তাতে ত্বকের আদ্রর্তা ক্রমেই হারাতে থাকে।

গোসলের আগে অয়েল মাসাজ করলেও গোসলের পর অতি অবশ্যই ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার করুন। তা না হলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কোনোদিনও কমবে না। ত্বক অল্প ভিজে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন।

খুব কড়া সাবান আপনার ত্বকের শুষ্কতা কেড়ে নেবে। হালকা কোনো সাবান বা সোপ ফ্রি ক্লেনজার ব্যবহার করুন। বেসন, মসুর ডাল বাটা, চালের গুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়। ক্লেনজার বা স্ক্রাবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সতকর্তা মেনে চলা উচিত।

অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা যে কোনো স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট এড়িয়ে চলুন। এগুলো ব্যবহারে ত্বকের আদ্রর্তার ভাঁড়ারে টান পড়ে। মিনারেল অয়েল, কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

অহেতুক রোদ লাগাবেন না ত্বকে, বিশেষ করে সকাল ন’টার পর। সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ছাতা, টুপি, সানগ্লাসও রোদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে। লিপ বাম কেনার সময়েও এমন কিছু বাছুন যার মধ্যে এসপিএফ আছে।

শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়বে ত্বকের ওপর। তাই পযার্প্ত পরিমাণে পানি পান করুন। দিনে অন্ততপক্ষে আট-দশ গ্লাস পানি পান করা একান্ত আবশ্যক। ডাবের পানি, ফলের রসও পান করতে পারেন।

 

Facebook Comments


No comments so far.

Leave a Reply