সর্ব গুনে গুণান্বিত কালোজিরা

শুধু খাবারের নয়, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয় কালোজিরা। কালোজিরার বীজ থেকে একধরণের তেল তৈরি হয়, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে আছে ফসফেট, আয়রন এবং ফসফরাস।

এছাড়াও কালোজিরা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করে। জেনে নিন নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্ক-

. নিয়মিত পেট খারাপের সমস্যা থাকলে কালোজিরা সামান্য ভেজে গুঁড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে ৭-৮ চা চামচ দুধে মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে সাত দিন ধরে খেলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে কালোজিরা। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

. যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা দূর করে।

.  প্রচণ্ড সর্দি হয়ে মাথা যন্ত্রণা হলে কালোজিরা কাপড়ে বেঁধে শুঁকতে হবে। তবে কাপড়ের মধ্যে নেওয়ার আগে তা ধুয়ে নিতে হবে। তাতে গন্ধ বের হয় এবং উপকার হয়।

.  প্রচন্ড মাথা ব্যথাতে কালোজিরে বেটে কপালে প্রলেপ দিলে ও মিহি গুঁড়োর নস্যি নিলে উপকার হয়।

. কালোজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানিতে উপকার হয়।

.  কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। এতে করে কালোজিরা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

.  স্মৃতিভ্রংশ ও স্মরণশক্তির দুর্বলতায় কালোজিরে খুব কার্যকর।

. পরিমাণমতো কালোজিরা খেলে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়।

. শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে।

Similar Posts

  • এক চিমটি ভালোবাসা হিং এর সাথে

    প্রাচীন এক খাবার হিং। এটার নাম আসাফোয়েটিডা। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। এখনও হয়। হয়তো একেক অঞ্চলে এটি একেক নামে পরিচিত। তবে ‘হিং’ নামে সুপরিচিতি পেয়েছে। অনেকটা মসলার মতো। ফেরুলা গোত্রের উদ্ভিদের মূল থেকে সংগৃহিত হয়। এক ধরনের মসলা। তবে ভারত ও নেপালের মতো বেশ কয়েকটি দেশে হিং চিকিৎসার উপকরণ হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। এটা হার্বাল।

  • স্বাদে-গুনে-পুস্টিতে ভরা গোলমরিচের নানা গুন

    গোলমরিচের আদিভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ। প্রাচীনকাল থেকেই খাদ্যে মসলা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লতাজাতীয় এ উদ্ভিদটির ফল শুকিয়ে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।   এ ফলের রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। এতে আছে ভিটামিন ‘এ’ ও ক্যালসিয়াম। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম গোলমরিচে আছে প্রোটিন ১১.৫ গ্রাম, ফ্যাট ৬.৮ গ্রাম, শর্করা ৮৯.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮৬০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৯৮…

  • দারুচিনির যত গুণ

    আজ আমাদের আলোচনার বিষয় দারুচিনির যত গুণ! দারুচিনি, এর ইংরেজি নাম: Cinnamon,এবং  বৈজ্ঞানিক নাম: Cinnamomus Zeylanicum) এটি  একটি মসলা গাছ এর  নাম। নরমাল  পরিবেশে এই গাছ এর  উচ্চতা দশ থেকে পনের মিটার পর্য্যন্ত হয়ে থাকে। এটি আদি বাসস্থান  শ্রীলংকায়। আজ কাল বেশির ভাগ  ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন প্রভৃতি দেশে ও উৎপাদিত হচ্ছে। দেখতে কিছুটা তেজপাতা গাছ  মতো, এই গাছ  চামড়াটা মসলা…

  • কিসমিসের যত উপকারিতা

    আমাদের দেশে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরিতে কিশমিশ ব্যবহৃত হয়। তবে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না মহাগুণধর এই পণ্যটিকে। কিশমিশ নিয়ে আবার অনেকের ভুল ধারণাও রয়েছে। অথচ এটি আমাদরে শরীরের জন্য খুবই উপকারি উপাদান। তাই প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেই কিশমিশের গুণাগুণ। তবে ডা য়াবেটিস রোগীদের জন্য কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস...
  • অনেক সমস্যার সহজ সমাধান – যষ্টিমধু

    যষ্টিমধু আসলে গাছের শিকড়। এটি আয়ুর্বেদীয় ওষুধ তৈরির অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যষ্টিমধুর গুণ অনেক। যেসব রোগ নিরাময়ে কার্যকর, তা হলোঃ আলসার : ক্লিনিক্যাল ও এক্সপেরিমেন্টাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন ও গ্লাইসিরাটিক অ্যাসিড আলসার সৃষ্টিকারী ১৫ হাইড্রোক্সি প্রস্টাগ্লান্ডিন ডিহাইড্রোজিনেস ও প্রস্টাগ্লান্ডিন রিডাকটেজ এনড্রাইমের কার্যকারিতা প্রতিরোধ করে এবং পাকস্থলীতে আলসার বা ক্ষত নিরাময়ে…

  • |

    মসলা যখন ঔষধের কাজ করে!

    লবঙ্গ একটি অতি পরিচিত একটি মসলার নাম।  রান্নার সময় অনেকে ফোঁড়নে ব্যবহার করেন। গরম মশলার সাথেও লবঙ্গ থাকে। তা রান্নার স্বাদ বাড়ায়। লবঙ্গতে ২০-২৫ শতাংশ ক্লোভ তেল এবং ১০-১৫ শতাংশ টাইটার পেনিক এসিড থাকে। যার ফলে এটা খেতে ঝাঁজালো। এর আরেক নাম “লং”। আসুন জেনে নেই লবঙ্গের বিশেষ কিছু গুণ সম্পর্কে ব্যাথা নাশক  দাঁত ব্যথা…