আমের যত উপকারিতা

আমকে বলা হয় ফলের রাজা। কেবল স্বাদে মিষ্টি বা ত্বককে ভালো রাখাই নয়, এর মধ্যে রয়েছে এমন অনেক পুষ্টিগুণ যা শরীরকে ভালো রাখে। সারা বিশ্বে প্রায় এক হাজার প্রজাতির আম রয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে হিমালয়ের আশপাশের সমতলভূমিতে এ ফলটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।

আম কি:

আম, ভারতীয় উপমহাদেশীয় এক প্রকারের সুস্বাদু ফল। কাঁচা অবস্থায় রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে। আম ভারতের জাতীয় ফল হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশ এবং ভারতে যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica। এটি Anacardiaceae পরিবারের সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে।

আম কেন খাবেন? আমের উপকারিতা  ও পুষ্টিগুণ কি কি?

১. আম আমাদের ত্বক কে সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। শুধু তাই নয়, এটি আমাদের ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। আম আমাদের ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমের আচার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

২. আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে । আমাদের শরীরের দাঁত, নখ, চুল ইত্যাদি মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৩. সাধারণত আম ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ফলে মুখের ও নাকের উপর জন্মানো ব্ল্যাকহেড দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম খান তাহলে আপনার মুখের কালো দাগ দূর হবে।

৪. আমের উপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আমের পুষ্টি উপাদান।  আমের আঁশে কিছু উপাদান যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে থাকে। আমে আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম এটা আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৫. আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।

৬. আমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরকে রাখে পুরোপুরি সতেজ। যার ফলে খুব দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।তাই আমের আচার খেতে পারেন।

৭. আমে রয়েছে বেটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম। এসব উপাদান পরিমাণে পর্যাপ্ত থাকায় পাকা আম হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।আমাদের হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. আপনি যদি প্রতিদিন খাবারের তালিকায় আম রাখতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদার প্রায় পঁচিশ শতাংশের যোগান দিতে পারবে। ভিটামিন ‘এ’ আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।

৯. আমে প্রচুর পরিমাণে এসিড থাকে যেমন- টারটারিক এ্যাসিড, ম্যালিক এ্যাসিড ও সাইট্রিক এ্যাসিড যা আমাদের শরীরে অ্যালকালাই বা খার ধরে রাখতে সহায়তা করে অনেকাংশেই।

১০. আমের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কিনা শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলন প্রোস্টেট ক্যান্সারের মত মারাত্মক ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে প্রয়োজনীয় এনজাইমও পাওয়া যায়।

১১. আম পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমদের হার্টবিট ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

১২. আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। আমের মধ্যে থাকা টারটারিক, ম্যালিক ও সাইট্রিক এ্যাসিড শরীরে অ্যালকোহল ধরে রাখতে সহায়তা করে।

১৩. আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন-সি এর পরিমাণ বেশি। যা আমাদের দাঁত ও হাড় গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১৪. আম আমাদের শরীরের ক্ষয়রোধ করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থূলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতি বাচক ভূমিকা পালন করে।

১৫. শুধু তাই নয়, আমের ভেষজ গুণ আমাদের স্কিন ক্যান্সারসহ ভিভিন্ন জটিল রোগ থেকে রক্ষা করে।

১৬. আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ সেই সাথে আরো আছে ফাইবার যা সিরাম কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টরল যেমন কম ঘনত্বের লাইপোপ্রটিন এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

Similar Posts

  • আমের ফলি বা আমচুর দিয়ে টক মিষ্টি ঝাল আচার

    ফলের রাজা আম।  আমাদের দেহে আম রাজার মতোই কাজ করে থাকে।  আম শুধুমাত্র একটি সুস্বাধু ফলই নয়, এটি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে ওষুধের কাজও করে।আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন।গবেষণায় দেখা গেছে, আম খাওয়ার ফলে স্থুলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়া ত্বক ও চুলের রঙের পরিবর্তনের...
  • পুষ্টিগুণে বরই সেরা

    দেশি ফলের মধ্যে বরই বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে আমাদের দেশে নানা জাতের বরইয়ের চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে নারকেল বরই, আপেলকুল, বাউকুল, থাইকুল আর দেশি টক বরই তো আছেই। বরই খেতে ভালোবাসেন কম বেশি সবাই। টক-মিষ্টি এই ফলটির রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। পুষ্টিগুণ ছাড়াও এর রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। অবসরে বরইয়ের আচার সঙ্গ দেয় মনকাড়া আস্বাদনে।...
  • প্রতিদিন রসুন খাওয়ার উপকারিতা

    রসুন যে শুধু খাবারে স্বাদ যোগ করতেই কাজে লাগে তা নয়। কাঁচা রসুনের বহু ভেষজ উপকারিতা ও আছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ রসুন খাওয়ার ফলে আপনি ক্যানসার ও হুদরোগের মতো জটিল রোগ থেকে বেঁচে যেতে পারেন। রসুন পুষ্টিকর কিন্তু এতে ক্যালরির পরিমাণ কম। রসুনে পাবেন ক্যালরি, প্রোটিন আর শর্করার মতো উপাদান। অনেকেই আছে যারা কাঁচা...
  • চুইঝাল স্পেশাল “স্ম্যাসড জলপাই” এর আচার

    চুইঝাল ডট কম- একটি পরিচিত নাম। সুস্বাদু এবং মুখোরোচক আচারের জন্য সবার মুখে  চুইঝাল এর নাম। অনেকেই জানতে চান যে, কিভাবে এত স্বুসাদু আর মুখোরোচক অথচ স্বাস্থ্যসম্মত আচার চুইঝাল কিভাবে বানায়। এতদিন আমরা এই সম্পর্কে কিছু বলি নি। আজ আমি আপনাদের কে একটা গল্প বলবো। গাছে ঝুলতে থাকা তাজা জলপাই থেকে বোতলের স্ম্যাসড জলপাই এর…

  • জল্পাইয়ের গুনাগুণ

    জনপ্রিয় ফল জলপাই। জলপাইয়ের প্রতি চাহিদা বেড়েই চলছে। বাজারে গেলে সবাই জলপাই ক্রয় করবেই। জলপাই শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়। নিয়মিত জলপাই খেলে পেতে পারেন এমন সব উপকারিতা যেগুলো প্রতিটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ চায়। জলপাই খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই জল্পাইয়ের আচার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।   চলুন, দেখে নেয়া যাক জলপাইয়ের...
  • তেঁতুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা

    তেঁতুল পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। বিশেষ করে তরূণীদের খাবারের তালিকায় উপরের দিকেই পাওয়া যায় এর নাম। তবে অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়। চলুন জেনে নেই তেঁতুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা “তেঁতুল খেলে রক্ত জ্বল হয়ে যায় অথবা তেঁতুল ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর” আধুনিক চিকিৎসকদের মতে এ...

Leave a Reply