শীত এখন জাঁকিয়ে বসেছে। হাত-পা সহ শরীরের সবকিছু হিম ঠান্ডায় বেশ জমে গেছে অনেকের। সেই সঙ্গে এই ঠান্ডায় শারীরিক সমস্যা লেগেই রয়েছে। যেমন ধরুন সর্দি, কাশি, হালকা জ্বরের মতো সমস্যা। আবার তার উপর রয়েছে করোনার আতঙ্ক। তার ফলে এই মুহূর্তে শারীরিক সমস্যা দূর করতে নিজেকে রাখতে হবে চাঙ্গা। এক কাপ গরম চায়ে চুমুক দিয়েই যদি সমস্ত রোগকে দূরে রাখা যায়।

সাধারণত আমরা অনেক ধরনের চা পান করি। রং চা, দার্জিলিং চা, গ্রিন টি, হোয়াইট টি ইত্যাদি। চা সুস্বাদু করতে অনেকে এর মধ্যে নানা কিছু মেশান। কেউ কেউ এর মধ্যে লেবুর রস, মধু, আদার রস মেশান। এলাচ, পুদিনা, তুলসি পাতাও চায়ে মেশানো হয়। কিন্তু কখনো কি গুড় দেয়া চা খেয়েছেন? গুড়ের আছে নানা উপকারিতা। শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে এটি নানাভাবে সাহায্য করে। চিনি দিয়ে চা না খেতেই পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কীভাবে এই বিশেষ ধরনের চা তৈরি করবেন তার প্রণালি আপনার জানা নেই? চিন্তা না করে বরং জেনে নিন গুড় দিয়ে বিশেষ ধরনের চা তৈরির পদ্ধতি।

প্রণালি

প্রথমে একটি পাত্রে এক কাপ পানি গরম করুন। এবার তার মধ্যে ৪টি ছোট এলাচ, ১ চামচ মৌরি, আধ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, ২ চামচ চা পাতা দিয়ে দিন। সামান্য ফুটতে দিন। এবার অন্য একটি পাত্রে আধ কাপ দুধ গরম করে নিন। ওই মিশ্রণটির মধ্যে ফুটন্ত দুধ ঢেলে দিন। তারপর তা গরম করে নিন। এবার ওই পাত্রের মধ্যে ২ চামচ গুড় দিন। সম্পূর্ণ গুড় মিশে যাওয়ার পর তা নামিয়ে নিন। ব্যস! গুড়ের চা তৈরি। এবার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে গরম গরম পরিবেশন করুন।

গুড়ের চায়ের উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে শরীরকে তরতাজা করতে সাহায্য করে গুড়। আপনারও তেমন সমস্যা থাকলে গুড়ের চায়ের কাপে একটা চুমুক আপনাকে দিতে পারেন অন্য রকমের তরতাজা অনুভূতি।

আপনার কী অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে? তবে গুড়ের চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আপনি সেই সমস্যা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

এছাড়াও গুড়ের চায়ে অন্যান্য উপকরণ আপনার ফুসফুসকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

অবসাদ এবং দুর্বলতা থেকেও আপনাকে মুক্তি দিতে পারে গুড়ের চা।

এক কাপ গুড় দেয়া চা খাবার হজমে সহায়ক শরীরের এনজাইমগুলো সক্রিয় করে। স্বভাবতই এটি হজমের ক্ষেত্রে উপকারী।

গুড়ে বিদ্যমান ম্যাঙ্গানিজ গলা খুশখুশ, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। এটি খেলে ব্রংকিয়াল মাশলগুলো আরাম পায়। ফলে গলা ও শরীর অনেক বেশি রিল্যাক্সড হতে পারে। তাই গুড় দিয়ে চা খান।

গুড়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আছে। গুড় খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে এবং অ্যানিমিয়ার সমস্যা দূর হয়। যে কারণে গুড় দিয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

যেকোনো গুড় আমাদের লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত গুড় দিয়ে চা খেতে হবে।

এটি অকৃত্রিম মিষ্টির ভাণ্ডার। এর মিষ্টত্ব কখনই ব্লাড সুগার লেভেল বাড়িয়ে তোলে না। তাই নিয়মিত চা-গুড় খান।

পিরিয়ডের সময় যেসব নারীর পেটে ও কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা হয়, তাদের জন্য গুড়-চা অত্যন্ত উপকারী। পিরিয়ডের ব্যাথা কম করতে সাহায্য করে গুড়।

সবশেষে বলা যায় যদি আপনি চা প্রেমী হন, তবে গুড়ের চায়ের কাপে যে চুমুক দিতে ভুলবেন না সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে যারা চা প্রেমী নন তারাও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে একবার অন্তত এই ধরনের চায়ে গলা ভিজিয়ে দেখতেই পারেন।

 

Facebook Comments


No comments so far.

Leave a Reply