ঘরোয়া উপায়ে এক সপ্তাহে ফর্সা ত্বক

ত্বক সুন্দর হোক কে না চায়। তবে অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় হয়ে উঠে না। এছাড়া কাজের চাপ,বাইরে প্রচণ্ড গরম সঙ্গে বৃষ্টি। আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকে আপনার ত্বকের লাবণ্য।তবে আপনি চাইলে বাড়িতেই অল্প সময়তেই সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ফর্সা হয়ে উঠবেন।আর এর জন্য মাত্র এক সপ্তাহ সময় যথেষ্ঠ।

 

আসুন জেনে নেই কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে এক সপ্তাহে পাবেন ফর্সা ত্বক।

 

১) টমাটো

টমেটো রয়েছে প্রচুর মাত্রায় লাইকোপেন নামক একটি উপাদান।যা সব ধরনের ত্বকের দাগ মিলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মৃত কোষেদের সরিয়ে দেয়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠতে সময় লাগে না।

১-২ টো টমাটো ব্লেন্ডারে ফেলে তার সঙ্গে ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রনটা ভাল করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা।

 

২) অ্যালোভের

অল্প করে অ্যালোভেরা জেল নিয়ে তাতে পরিমাণ বাদাম গুঁড়ো মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রনটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ১৫-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ফর্সা করার পাশপাশি নানারকম স্কিন ডিজিজের প্রকোপ কমাতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাদাম গুঁড়ো মুখে জমে থাকা ময়লা এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করতে দারুন কাজে আসে।

 

৩) মধু, দই

পরিমাণ মতো দইয়ে অল্প করে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেই পেস্টটা কম করে ১৫ মিনিট মুখে মাসাজ করুন। সময় হয়ে গেলে মুখটা ধুয়ে নিন।

মধু ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে আর লেবুর রস এবং দইয়ে মিশ্রনে উপস্থিত ভিটামিন-সি ত্বককে উজ্জ্বল এবং ফর্সা করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

৪) ডিমের ফেস প্যাক

ত্বককে ফর্সা করে তুলতে ডিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। চাই তো ত্বকের পরিচর্যায় ডিমকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না। এক্ষেত্রে একটা ডিমের কুসুম নিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিয়ে সেটি সারা মুখে ভাল করে লাগিয়ে নিতে হবে।

এরপর কম করে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা।

 

৫) আমের খোসা এবং দুধ

গরমকালে রাতের বেলা গরম গরম দুধে আম মিশিয়ে খেতে কী সুস্বাদু লাগে। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে দুধের সঙ্গে আমের খোসার মিশিয়ে ত্বকে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো দুধে অল্প করে আমের খোসা মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রনটা মুখে, গলায় এবং ঘারে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিয়ে ধুয়ে নিন।

লেবুর রস ও চিনি

একটা লেবু থেকে রস সংগ্রহ করে তাতে ১ চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রনটি ততক্ষণ পর্যন্ত মুখে ঘষতে থাকুন, যতক্ষণ না চিনিটা ত্বকের সঙ্গে একেবারে মিশে যায়। যখন দেখবেন এমনটা হচ্ছে, তখন মুখটা ঠাণ্ড পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। ফর্সা ত্বক পেতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি দারুন কাজে আসে।

 

৬) গোলাপজল

গোলাপজলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ভিতর থেকে ত্বককে পরিষ্কার করে। ফলে স্কিন সুন্দর এবং তুলতুলে হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে সমপরিমাণে গোলাপজল এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন।

তারপর সেই মিশ্রন রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখে লাগিয়ে ফেলুন। সারা রাত রেখে সকালে মুখটা ধুয়ে নিন। এমনটা মাত্র দু দিুন করলেই দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠেছে।

 

৭) দুধ,কলা

অল্প সময়ে ত্বক উজ্জ্বল করতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তার উপর যদি দুধকে কাজে লাগানো হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এক্ষেত্রে একটা কলাকে চোটকে নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো দুধ মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন পেস্টটা যেন একেবারে মিহি হয়ে যায়। তবেই কিন্তু ভাল কাজ দেবে।

 

৮) ডাবের পানি

ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলতেও ডাবের পানির কোনও বিকল্প নেই। দিনে দুবার যদি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধোয়া যায়, তাহলে ত্বক ফর্সা হতে একেবারে সময়ই লাগে না। শুধু তাই নয়, মুখের দাগ মেটাতেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি দারুন কাজে আসে।

 

৯) খাবার সোডা ও পানি

পরিমাণ মতো খাবার সোডা নিয়ে তাতে অল্প করে পানি মিশিয়ে একটা থকথকে পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর সেটা মুখে এবং গলায় ১৫ মিনিট ধরে লাগানোর পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

Similar Posts

  • ত্বকের যত্নে মসুরের ডালের ব্যবহার

    আমাদের প্রতিদিনই নানা কাজে সারাদিন বাসার বাইরে কাটাতে হয়। ফলে পরিবেশ দূষণের কারণে ত্বকের বারোটা বেজে যেতে সময় লাগে না। এমন পরিস্থিতিতে দিনের শেষে  ত্বককে পরিষ্কার না করলে ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।  ত্বক সুন্দর রাখার জন্য ত্বকের  যত্নে আমরা কতো কি না ব্যবহার করি, কিন্ত তাতেও ত্বক নিয়ে সমস্যার কমতি নেই। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো…

  • |

    মাজু ফলের ম্যাজিক

      মাজু ফল এর ইংরেজি নাম হচ্ছে gallnut বা marking nut । এটি মূলত একটি চাইনিজ ফল। গাছে হলেও এটি কিন্তু আসলে ফল না। এটি সাধারণত এক ধরনের পতঙ্গের কারনে হয়ে থাকে। গাল নামের এক ধরনের পতঙ্গের লার্ভা দিয়েই তৈরি। এটি ওক গাছে হয়ে থাকে। বিশ্বের ৯৫% মাজুফল চায়না থেকে আসে। তাই চাইনিজ মার্কেটে এটি…

  • |

    মাজু ফলের গুনাগুন

    ভ্যাজিনা টাইটিং,ব্রেস্ট টাইটিনিং আর পিম্পল রিমুভ এর জন্য মাজুফল বেস্ট।মাত্র কয়েক টা তেই কাজ হয়। আর ব্রন, ব্রনের গর্ত সহ চলে যায়।  মাজুফল একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল যা স্কিন, ভ্যজিনা, ব্রেস্ট টাইটেনিং এর জন্য অনেক আগে থেকে কোরিয়া /চায়নার মহিলারা ব্যবহার করে আসছে। এন্টি এজিং থেকে শুরু করে ব্রেস্ট ক্যন্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে এই ফলের।…

  • শীতে কেমন হবে ত্বকের যত্ন

    এই ব্যস্ত শহরে শীতের সকালে মিষ্টি রোদ আর ঠাণ্ডা বাতাসের ছোঁয়া সবাইকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও অন্য একটা কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যায়। প্রায় এক বছর পর ফিরে আসা সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর ঝরে পড়া শিউলি ফুলের সুগন্ধ যেন বিমোহিত করে রাখে সারাক্ষণ, প্রফুল্ল করে তোলে মন-শরীর। কিন্তু এই আবহাওয়া কি মানিয়ে চলতে পারবে আপনার…

  • আলুর রসে রূপচর্চা

    শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই অনেকের অবাক লাগছে। হয়ত হাসিও পাচ্ছে। আলু দিয়ে আবার রূপচর্চা হয় না কি এটাই তো ভাবছেন ? তবে রূপচর্চায় আলুর ব্যবহার অনেক পুরোনো। আপনারা নিয়মিত ব্যবহারের জন্য আপনাদের পছন্দমত যেকোনো একটি বা দুটি ফেস প্যাক বেছে নিতে পারেন।প্রতিদিন ব্যবহার করলে পাবেন উজ্জ্বল ত্বক। ১) আলু ও লেবুর রস ১ চা চামচ আলুর…

  • শীতে ত্বকের যত্নে মধু

    বহু কাল  থেকেই মধুর গুণাগুণ বা উপকারিতা  প্রত্যেকের মুখে মুখে শুনে এসেছি। মধু যে শরীরের জন্য খুবই উপকারী, তা আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেরই জানা নেই যে, মধু ত্বকের পক্ষেও খুবই উপকারী কাজ করে থাকে । শীতে শুষ্ক ত্বক নিয়ে অনেক কে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়।মধুর যে শুধু স্বাস্থ্যগুণ আছে, এমন টা…

Leave a Reply