কালো জিরারা আচার

কালোজিরা

কালোজিরা একটি মাঝারি আকৃতির মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nigella Sativa Linn। এর স্ত্রী, পুরুষ দুই ধরনের ফুল হয়, রং সাধারণত হয় নীলচে সাদা, পাঁচটি পাঁপড়ি বিশিষ্ট । কিনারায় একটা বাড়তি অংশ থাকে। তিন-কোনা আকৃতির কালো রং এর বীজ হয় । গোলাকার ফল হয় এবং প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকে ।

কালোজিরা খুব পরিচিত একটি নাম। ছোট ছোট কালো দানাগুলোর মধ্যে সৃষ্টিকর্তা যে কী বিশাল ক্ষমতা নিহিত রেখেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর।

প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: “ তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যৃ ব্যতীত সর্বরোগের মুক্তি এতে রয়েছে”

জেনে নিন কালোজিরার কিছু উপকারিতা:

১. ডায়াবেটিস সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগ হিসেবে পরিণত হয়েছে। কালোজিরার আচার খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে।

২. ডায়েটের জন্য কালোজিরা দারুণ কাজ করে। রুটি ও তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই মধু ও পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। কালোজিরা ওটমিল ও টক দইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে খেলে বেশ উপকার পাবেন।

৩. লেবুর রস ও কালোজিরা তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। লেবুর রস ও কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে দু’বার মুখে লাগান। ত্বকে ব্রণ ও দাগ অদৃশ্য হয়ে যাবে।

৪. কালোজিরা তেল মাথাব্যথার জন্য একটি পুরানো ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বলা হয়। এটি মাথার ত্বকের ম্যাসাজ করুন।

৫. সরিষার তেলের সঙ্গে কালোজিরা  গরম করে হাঁটু বা অন্যান্য জয়েন্টগুলোতে ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি জয়েন্টের ব্যথা থেকেও মুক্তি পেতে সহায়তা করবে।

৬. কালোজিরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায়, প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করার ক্ষমতাসহ লিভারকে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করে। কালোজিরা রাসায়নিকের বিষাক্ততা কমাতে পারে। লিভার ও কিডনি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে কালোজিরা। নিয়মিত কালোজিরা  আচার খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

৮. সর্দি-কাশিতে আরাম পেতে, এক চা চামচ কালোজিরার সঙ্গে ১ চা চামচ মধু বা এক কাপ লাল চায়ের সঙ্গে আধ চা চামচ কালোজিরের মিশিয়ে দিনে বা রাতে খেতে পারেন আপনি চাইলে কালজিরার আচার ও খেতে পারেন।

৯. যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার আচার রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা দূর করে।

১০. নিয়মিত কালোজিরা আচার খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

১১. নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।

১২. যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালোজিরা। প্রসূতি মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি করে দুধের সাথে খেলে মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালোজিরা আচার ভাতের সাথে খেলেও ভাল। এছাড়া ১ চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিন ৩বার করে নিয়মিত খেলেও শতভাগ উপকার পাওয়া যায়।

 

সূত্র- ইন্টারনেট

Similar Posts

  • |

    মিশরের ফারাও নারীদের পছন্দ আচার!

    আচার কথা টা শুনতে বেশ লোভনীয় হলে ও ব্যাপারটা কিন্তু মুখরোচক । এই  বিষয়ে কোন কিছু লেখা বা পড়া শুরু করলে জিভ এ জল আসবে না তেমন টা কিন্তু না।তাই কোন কিছু শুরু করার আগে নিজের মতো করে দুটো লাইন বললে কেমন হয়ঃ ‘’আচার তুমি সবার মুখে পানসে পানসে জল মুখের ভেতর ধরা দিলে টক-মিষ্টি...
  • তেঁতুলের অজানা তথ্য

    তেঁতুল আমাদের দেশের বসন্তকালের টকজাতীয় ফল হলেও সারা বছর পাওয়া যায়। অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল, বরং তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভেষজ গুণ। তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুবই উপকারী। তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, ইউনানী,হোমিও ও এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি...
  • আলু বোখারার আচার

    আলুবোখারা   আলুবোখারা  বাংলাদেশে  স্বল্প ব্যবহৃত একটি উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসল । আলুবোখারা দিয়ে জ্যাম , জেলি , চাটনি , কেক , আচার প্রভৃতি তৈরি করা যায় । মধ্য ইংল্যান্ডে সিডার জাতীয় অ্যালকোহলিক বেভারেজ যা প্লাম জাবকাস নামে পরিচিত তা আলুবোখারা থেকেই প্রস্তুত করা হয় । শুকনা আলুবোখারা (যা প্রুন নামে পরিচিত) মিষ্টি , রসালো...
  • |

    বোম্বাই মরিচ

    মরিচ চিবিয়ে কান মুখ গরম করেন নি এমন মানুষ খুব কমই দেখা যাবে। কম বেশি আমাদের সকলেরই এই ধরনের মজার অভিজ্ঞতা আছে। ঘটনাটি বেশি ঘটে আমরা তখন যখন আমরা মুড়ি মাখানো বা ঝালমুড়ি খাই। মরিচ চিবালে কেমন লাগে সেটি জানা সত্ত্বেও আমরা মুড়ি মাখানোর সময় বলি যে “মামা আমারটাই কিন্তু ঝাল বেশি হবে”। তো সে…

  • আমের ফলি দিয়ে মজাদার আমচুর

    অনেকেই ভাবেন, আম এতটাই মিষ্টি যে তা খেলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু জানেন কি, এই ফলের রাজা কিন্তু আপনার চর্বি গলিয়ে দিতে খুবই ভাল কাজ করতে পারে।আমে রয়েছে ভরপুর নিউট্রিশন আর এটি ফাইবারে পরিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আম খেলে দীর্ঘ সময় খিদে পায় না। এতে থাকা ফাইবারই পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আমে আরো রয়েছে...
  • রসনায় বাসনায় চালতা

    চালতা চালতার দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় কম-বেশি সকলেই এটি পছন্দ করে। চালতা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরী করা হয় যা সবারই কম-বেশি পছন্দ। আবার এই ফলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। চালতায় আছে ক্যালসিয়াম, শর্করা, আমিষের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। এ ছাড়াও আছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, থায়ামিন ও রিবোফ্লাবিন। তাই চালতা শরীরে যেমন রোগ…

Leave a Reply