|

জয়ফলের উৎপত্তি এবং রক্তপাতের ইতিহাস!

আজ আপনার প্লেটে যে জয়ফল বা জয়ত্রী সুভাষ ছড়ায় তার পেছনে রয়েছে অনেক রক্তপাতের ইতিহাস।
ইন্দোনেশিয়ার মালুকা দ্বীপপুঞ্জের ছোট্ট একটা দ্বীপ স্পাইস আইল্যান্ড। স্পাইস আইল্যান্ড ছিল একটা উর্বর ভূমি এই দ্বীপের চমৎকার আবহাওয়া এবং জলবায়ু ছিল জয় ফলের জন্য স্বর্গ। এখানে মানুষ ছিল খুবই শান্ত প্রিয়। দ্বীপের মানুষ সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছিল কিন্তু একসময় তাদের এই সুখ শান্তির দিন শেষ হল। তাদের এই গুপ্তধনের কথা ছড়িয়ে পড়লো গোটা পৃথিবীতে।
১৫০০ থেকে ১৬০০ শতাব্দীর দিকে আরব বনিকরা এই দ্বীপ খুঁজে বের করে প্রথমবারের মতো। আরবরা এই মসলা বিভিন্ন বন্দরে বন্দরে বিক্রি শুরু করলো এবং বলা হত সোনার ওজনে তারা জয়ফল বিক্রি করতো। তখনকার জামানায় এক কেজি জয়ফল দিয়ে লন্ডনে একটা বাড়ি কিনে ফেলা যেত। এই জয়ফল তখন এতটাই দুর্লভ জিনিস ছিল।
পর্তুগিজরা এর সন্ধানে উঠে পড়ে লাগল, একদিকে ব্রিটিশরা যেমন এই দ্বীপের দখল নিতে চায় অন্যদিকে ডাচরাও এই দ্বীপের দখল নিতে চায়। আর এই দ্বীপের আদি বাসিন্দা যারা ছিল তারা দাসত্বের জীবন বেছে নিতে বাধ্য হলো। আর তখন আরেকটা কথা প্রচলিত হয়ে পড়ে “জয়ফলে আছে প্লেগ রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা”। তখন প্লেগ রোগ পুরো পৃথিবী কে জেঁকে ধরেছিল তাই সবাই চাচ্ছিল এর পরিত্রাণের উপায় টাকে নিজের কব্জায় রাখতে। ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সেনাপতি নাথানিয়েল কোর্টহোপ স্পাইস আইল্যান্ড প্রথমবারের মতো দখল করে। কিন্তু মাত্র চার বছর পর ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে নিজ দলের মধ্যেই এক ডাচ গুপ্তচরের হাতে প্রাণ যায় কোর্টহোপের। এরপর ব্রিটিশরা দাবি করতে থাকে এই দীপটা তাদের অন্যদিকে ডাচরাও তাদের দখল ছাড়েনি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ যায় উভয় দলের অসংখ্য সৈন্যের।
বর্তমান সময়ের কথায় আসিঃ বর্তমানে স্পাইস আইল্যান্ড ঠিক আগের মতোই জয়ফলের চাষ হচ্ছে সেখানের বাসিন্দারা খুবই সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করছে। কিন্তু তাদের পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো তাদেরকে দেয় পীড়া দেয়। স্পাইস আইল্যান্ড এখন ঘুরতে যাওয়ার জন্য একটা দারুন লোকেশন বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছে এটা যেমন একটা ঐতিহাসিক স্থান তেমনি মনোরম পরিবেশের জন্য স্থানটাকে অনেক পর্যটক বেছে নেন। তবুও কেন জানি স্পাইস আইল্যান্ডের বাতাসে জয়ফল জয়ত্রীর সুগন্ধ ছাপিয়ে একটা চাপা কান্নার আভাস পাওয়া যায়।
আসুন এবার জানি জয়ফল আসলে কি এবং কি কি হয় জয়ফল দিয়ে?
জয়ফলের উপরের যে আবরণ থাকে সেটা দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু চকলেট এবং অন্যান্য অনেক কিছু তার ঠিক মাঝখানে আরেকটা লেয়ার থাকে যে লেয়ারটাকে আমরা চিনি জয়ত্রী হিসেবে। আর তার মাঝখানে যে শক্ত আবরণ সেই শক্ত আবরণটা ভাঙলে মাঝখানের যে অংশটা থাকে একটা সুপারির মতো দেখতে সেই জিনিসটাই মূলত জয়ফল যেটা বিরিয়ানি পোলাও শাহী রান্না মেজবানি এবং অন্যান্য অনেক রেসিপিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া জয় ফল ব্যবহার করা হয় নানা রকম হারবাল মেডিসিন তৈরিতে।

Similar Posts

  • |

    ইসুবগুল

    ইসুবগুল গতকাল আমরা একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম যে এই কন্টেইনারে কি আছে ? আপনারা অনেকেই বলতে পেরেছেন আবার অনেকে বলতে পারেননি । অনেকেই বলেছেন যে এই কন্টেইনারে আছে তোকমা দানা , তিসি , মৌরি ,জিরা , সিয়া সিড ,আবার একজন বলেছে এইটা নাকি  গরুর মাংস ইত্যাদি কিন্তু অনেকে আবার সঠিক উত্তর ও দিয়েছেন এটা হচেছ…

  • কিসমিসের যত উপকারিতা

    আমাদের দেশে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরিতে কিশমিশ ব্যবহৃত হয়। তবে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না মহাগুণধর এই পণ্যটিকে। কিশমিশ নিয়ে আবার অনেকের ভুল ধারণাও রয়েছে। অথচ এটি আমাদরে শরীরের জন্য খুবই উপকারি উপাদান। তাই প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেই কিশমিশের গুণাগুণ। তবে ডা য়াবেটিস রোগীদের জন্য কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস...
  • |

    কালোজিরা তেল এর যত গুণগান

    কালোজিরার স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন থেকে শুরু করে শরীরের কোষ ও কলার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কালোজিরা। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্যই না কালোজিরা চুল ও ত্বকের জন্যও অনেক উপকারি। প্রত্যেকের রান্নাঘরেই কালোজিরা থাকে যা খাবারকে সুবাসিত করে। আসুন আমরা আজ আশ্চর্য বীজ কালোজিরার উপকারিতা গুলো জেনে নেই।   স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি : এক চা-চামচ পুদিনাপাতার…

  • দারুচিনির যত গুণ

    আজ আমাদের আলোচনার বিষয় দারুচিনির যত গুণ! দারুচিনি, এর ইংরেজি নাম: Cinnamon,এবং  বৈজ্ঞানিক নাম: Cinnamomus Zeylanicum) এটি  একটি মসলা গাছ এর  নাম। নরমাল  পরিবেশে এই গাছ এর  উচ্চতা দশ থেকে পনের মিটার পর্য্যন্ত হয়ে থাকে। এটি আদি বাসস্থান  শ্রীলংকায়। আজ কাল বেশির ভাগ  ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন প্রভৃতি দেশে ও উৎপাদিত হচ্ছে। দেখতে কিছুটা তেজপাতা গাছ  মতো, এই গাছ  চামড়াটা মসলা…

  • দারুচিনির শতগুণ

    দারিচিনিকে আমরা সবাই মসলা হিসেবেই চিনে থাকি।আশ্চর্যের বিষয় হলো এতে রয়েছে প্রচুর বহুমুখী গুণাবলি। দারুচিনি এইগ্রহের সবচেয়ে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেষজ। এর মিষ্টি স্বাদ এবং সুন্দর সুবাস জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে প্রায় প্রত্যেক সংস্কৃতির দ্বারা সম্মানিত হয়ে আসছে। দারুচিনিতে রক্তের শর্করার রোধক সহ উন্নত অসাধারণ ঔষধি গুণাবলী রয়েছে যা , প্রদাহ কমাতে এবং স্নায়বিক…

  • |

    গুণে ভরা রসুন

    রসুন একটি মসলা জাতীয় খাদ্য উপাদান। রান্নার মসলা হিসেবে রসুনের ব্যবহার সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসছে। রান্নায় স্বাদকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু নয়, রসুনের পুষ্টিগুণ রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে মসলার অন্যতম তালিকার মধ্যে। তাই রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভাল রাখার ঔধষ হিসেবেও কাজ করে। অনেক বছর আগে থেকে রসুন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি...

Leave a Reply