ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে তেঁতুল!

তেঁতুল বা তিন্তিড়ী এর বৈজ্ঞানিক নাম ঃTamarindus indica, ইংরেজি নাম: Melanesian papeda এটি Fabaceae পরিবারের Tamarindus গণের অন্তর্ভুক্ত টক জাতীয় ফলের গাছ। এটি একপ্রকার টক ফল বিশেষ।

তেঁতুল আমাদের দেশের বসন্তকালের টকজাতীয় ফল হলেও সারা বছর পাওয়া যায়। অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য তিকর এবং তেঁতুল খেলে রক্ত জল হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভেষজ গুণ। তেঁতুল দেহে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, আয়ূর্বেদীয়, হোমিও ও এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয়। পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি।

খাদ্যশক্তির পরিমাণ নারিকেল ও খেজুর ছাড়া সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি আছে। অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাভাবিক পরিমাণে আছে এ তেঁতুল যেসব রোগের জন্য উপকারী তা হলো স্কার্ভি রোগ, কোষ্ঠবদ্ধতা, শরীর জ্বালা করা প্রভৃতি রোগে তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী বা তেতুলের আচার খেতে পারেন।

 

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক তেঁতুলের নানাবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

১)তেঁতুলে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা ত্বকের পক্ষে ভীষণই উপকারী । কিডনি ফেলিওর এবং ক্যান্সার রোধেও তেঁতুলের ভূমিকা আছে৷ তেঁতুল গাছের পাতা এবং ছালের অ্যান্টি সেপটিক এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়ালের গুণের জন্য ক্ষত সারাতে কাজে লাগানো হয়৷

২) রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল দারুনভাবে কাজে করে থাকে। আসলে তেঁতুলে উপস্থতি বেশ কিছু এনজাইম, কার্বোহাইড্রেটের শোষণ মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফল ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।তাই তেতুলের আচার খেতে পারেন।

৩) গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে তেঁতুলের ভিতর থাকা একাদিক ভিটামিন এবং খনিজ ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্তে উপস্থিত বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৪) প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকার কারণে তেঁতুলে খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে শুধু সংক্রমণ নয়, ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৫) পেট ব্যথা বা কোষ্ঠকাঠিন্যর মতো সমস্যা থেকে সমাধানে তেঁতুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তেঁতুলের মধ্যে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড এবং পটাশিয়ামের উৎস যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৬) তেঁতুলকে কাজে লাগালে শরীরে হাইড্রোক্সিসিট্রিক অ্যাসিড বা এইচ সি এ-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই উপাদানটি শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে সার্বিকভাবে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে তেঁতুল খাওয়া শুরু করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে ক্ষিদে কমে যায়। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।

৭) ব্রণের সমস্যা দূর করতেও উপকারী তেঁতুল। মরা কোষ তুলতে ও ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে তেঁতুল৷ এছাড়া তেঁতুল আল্ট্রাভায়োলেট রে থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

Similar Posts

  • আমের ফলি দিয়ে মজাদার আমচুর

    অনেকেই ভাবেন, আম এতটাই মিষ্টি যে তা খেলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু জানেন কি, এই ফলের রাজা কিন্তু আপনার চর্বি গলিয়ে দিতে খুবই ভাল কাজ করতে পারে।আমে রয়েছে ভরপুর নিউট্রিশন আর এটি ফাইবারে পরিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আম খেলে দীর্ঘ সময় খিদে পায় না। এতে থাকা ফাইবারই পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আমে আরো রয়েছে...
  • রসনায় বাসনায় চালতা

    চালতা চালতার দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় কম-বেশি সকলেই এটি পছন্দ করে। চালতা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরী করা হয় যা সবারই কম-বেশি পছন্দ। আবার এই ফলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। চালতায় আছে ক্যালসিয়াম, শর্করা, আমিষের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। এ ছাড়াও আছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, থায়ামিন ও রিবোফ্লাবিন। তাই চালতা শরীরে যেমন রোগ…

  • |

    আমচুরের-আচার

    আমচুর ফলের রাজা আম। ফল হিসেবে আমের তুলনা নেই। এটি খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না। ছোট বড় সকল বয়সের মানুষ পাকা আম খেতে খুব পছন্দ করে। গ্রীষ্ম ঋতুতে আমের গন্ধে চারিদিক মো মো করে। তবে কাঁচা আমেরও তুলনা নেই। কাঁচা আম দিয়ে ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানা রকম আচার। টক…

  • ঝাল ঝাল বোম্বাই মরিচের আচার

    মরিচ চিবিয়ে কান মুখ গরম করেন নি এমন মানুষ খুব কমই দেখা যাবে। কম বেশি আমাদের সকলেরই এই ধরনের মজার অভিজ্ঞতা আছে। ঘটনাটি বেশি ঘটে আমরা তখন যখন আমরা মুড়ি মাখানো বা ঝালমুড়ি খাই। মরিচ চিবালে কেমন লাগে সেটি জানা সত্ত্বেও আমরা মুড়ি মাখানোর সময় বলি যে “মামা আমারটাই কিন্তু ঝাল বেশি হবে”। তো সে...
  • বোম্বাই মরিচ কতটা উপকারি

    বোম্বাই মরিচ , মরিচের একটি প্রজাতি যা প্রচন্ড ঝালের জন্য পরিচিত। নাগা মরিচ সহ অন্যান্য আরো অনেক নামে এই মরিচ টি পরিচিত। কেউ কেউ এটি কে ফোটকা মরিচ হিসেবে ও জানেন। অনেকেই একে ভুত মরিচ বলে ডেকে থাকেন এর প্রচন্ড ঝালের কারনে। ঝালটা যদি পরিমাপ  করা হয় তাহলে এর মান  দাঁড়ায় (১০+++)। আজ জানবো বোম্বাই...
  • রোগ প্রতিরোধ ও পুষ্টিতে ‘চালতা’

    চালতা চেনে না এমন কেউ নেই। চালতা গাছ মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। এ গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। চালতা গাছ ভারত, শ্রীলংকা, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশেও প্রচুর জন্মে। চালতা গাছের মূল আকর্ষণ হলো এর ফুল। মে-জুন মাসে চালতা গাছে ফুল ফোটে। চালতা একটি অপ্রকৃত ফল। ফলগুলো হয় বড় ও গোলাকার। ফলের রং...

Leave a Reply