ত্বকের যত্নে টক দই

টক দই একটি দুগ্ধজাত খাবার এটা আমরা সকলেই জানি । এতে আছে অনেক  দরকারি ভিটামিন, মিনারেল, আমিষ ইত্যাদি। টক দই  রোগ প্রতিরোধ করতে ও রোগ সারাতে সাহায্য করে। আমরা বাড়িতে  কমবেশি সবাই খাদ্যতালিকায় টক দই রাখি। আজকাল অনেক রুপ সচেতন নারী ত্বকের যত্নে কার্যকরী উপাদান হিসেবে টক দই ব্যবহার করেন।টক দই ত্বকের জন্য খুই উপকারি একটি উপাদান । কিভাবে ত্বকের যত্নে টক দই ব্যবহার করবো টা জেনে নিন-

১) কম বেশি সকল নারীদেরই ব্রণ হয়ে থাকে।  যাদের  ত্বকে ব্রণের দাগ রয়ে গেছে তাঁরা হাফ  কাপ দই ও ১ টি  লেবুর রস বাটিতে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ব্রণের দাগের ওপর লাগিয়ে ১৫-২০  মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

২) আমাদের কর্ম ব্যস্তার জন্য নিয়মিত বাসা থেকে বের হতে হয় । অনেকের ত্বকে রোদে ঘুরে বেড়ালে ত্বকে পোড়া ভাব চলে আসে। ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়। রোদ থেকে ফেরার পর ত্বক জ্বালাপোড়া করে। এই জ্বালাপোড়া কমাতে ভালো কাজে দেয় টক দই। ১ টেবিল চামচ টক দই ও ২ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন। নিমিষেই ত্বকের জ্বালাপোড়া কমে আসবে। এতে করে ত্বকে থাকা ধুলা-ময়লাও দই ও তেলের মিশ্রণের সাথে  উঠে আসবে। দইয়ে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বককে সুরক্ষা দিয়ে থাকে ।

৩) ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও টক দইয়ের জুড়ি নেই এটা আমরা কম বেশি সবাই জানি । এ জন্য টক দই, বেসন ও মধু মিশিয়ে নিন ভালো করে। মুখসহ শরীরের অন্যান্য অংশেও মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারবেন ভালো উপকার পাবেন । ব্যবহারের ২০ – ৩০ মিনিট পর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং হবে উজ্জ্বল ও কোমল হবে ।

টক দইয়ের ফেসপ্যাক বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এটা আরো ভালো কাজে দেবে। ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ লেবুর রস, ১ চামচ মধু একসাথে  মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে ১৫- ২০ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে এলে  ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪) ত্বকের তেলতেলে ভাব ও মরা চামড়া দূর করতেও টক দই ভালো কাজ করে থাকে । প্রথমে ১ ডিমের সাদা অংশের সাথে  টক দই মিশিয়ে ১০- ১৫ মিনিট রেখে দিন। এবার গোসলের আগে মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫- ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর  ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের তেলতেলে ভাব চলে যাবে সহজে ।

৫) যাদের ত্বকে মরা চামড়ার সমস্যা রয়েছে তা  দূর করতে টক দই, চিনি ও ওটমিল একসাথে  মিশিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে মরা চামড়ার স্থানে লাগান।সামান্য শুকিয়ে এলে  নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে জায়গাটি ঘষুন। ত্বকের মরা চামড়া উঠে আসবে খুব সহজে ।

 

Similar Posts

  • |

    বয়সের ছাপ পরতে শুরু করার আগেই তাদের আটকান

    চোখের তলায় ভাঁজ, বলিরেখা, খোলা রোমকূপ, নির্জীব ত্বক এসবই বয়সের ছাপের লক্ষণ। বয়স বাড়লে ত্বকে তার প্রভাব পড়বেই। তবে নিয়মিত পরিচর্যায় ত্বক সতেজ ও সুন্দর রাখা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের যত্ন না নিলে বেশি বয়সের অনেক আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা যায়। তাই অবহেলা না করে শুরু থেকেই ত্বকের যত্ন নেয়া উচিত। প্রথমেই কী কী…

  • ত্বকের সুরক্ষায় বরফের ব্যবহার

    ত্বক হল আমাদের সৌন্দর্যের প্রতীক। ত্বককে ভালো রাখার জন্য আমরা অপ্রাণ চেষ্টা করে থাকি। এর পেছনে প্রচুর সময় ও শ্রম অপচয় করে থাকি। দামি দামি ক্যামিকাল প্রোডাক্টও ব্যবহার করি। আবার কেউ কেউ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের পরিচর্যা করে। দিনের শেষে ভুলেই যাই হাতের কাছে একটি অপরিহার্য উপাদান আছে যা ত্বকের সব সমস্যার সমাধানের জাদুকাঠি। ত্বকের জন্য…

  • শীতে ত্বকের যত্নে মধু

    বহু কাল  থেকেই মধুর গুণাগুণ বা উপকারিতা  প্রত্যেকের মুখে মুখে শুনে এসেছি। মধু যে শরীরের জন্য খুবই উপকারী, তা আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেরই জানা নেই যে, মধু ত্বকের পক্ষেও খুবই উপকারী কাজ করে থাকে । শীতে শুষ্ক ত্বক নিয়ে অনেক কে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়।মধুর যে শুধু স্বাস্থ্যগুণ আছে, এমন টা…

  • ত্বক উজ্জ্বল রাখবে টমেটো

    স্বাস্থ্য কিংবা সৌন্দর্য উভয় বজায় রাখতে টমেটোর কোনো বিকল্প নেই।ত্বকের কালো দাগ, রোদে পোড়া ভাব, তৈলাক্ততা দূরীকরন এমনকি ত্বক ফর্সা করতেও টমেটোর ভূমিকা লক্ষনীয়।ত্বক উজ্জ্বল করে টমেটোতে থাকা প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি এর উপস্থিতি। সামান্য অম্ল প্রকৃতির টমেটোয় প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি উপস্থিত যা ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়াও টমেটোয়…

  • | |

    রুক্ষ শীতে ত্বকের যত্ন

    শীত কালের জন্য কিছু জরুরি টিপস শীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের ত্বক, চুল ,হাত ও পায়ে পড়ে।  যার ফলাফল শুষ্ক ত্বক,রুক্ষ চুল,ফাটা ঠোঁট ইত্যাদি। এইসব সমস্যা দূর করা অনেক সময় সাপেক্ষ এবং ঝামেলার ও বটে । যার ফলে শহরের এই কর্মব্যস্ত জীবনে সৌন্দর্য ধরে রাখা টা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কি করে অল্প সময়ে…

  • মন মেজাজে মাজু ফল

    মন মেজাজে মাজু ফল মাজু ফল  মূলত একটি চাইনিজ ফল । গাছে হলেও এটি কিন্তু আসলে ফল না । এটি সাধারণত এক ধরনের পতঙ্গের কারনে হয়ে থাকে। গাল নামের এক ধরনের পতঙ্গের লার্ভা দিয়েই তৈরি  । এটি ওক গাছে হয়ে থাকে ।  বিশ্বের ৯৫% মাজুফল চায়না থেকে আসে ।  তাই চাইনিজ মার্কেটে এটি বেশি পাওয়া…

Leave a Reply