isub-gul ইসুব-গুল@chuijhal.com
|

ইসুবগুল

ইসুবগুল

গতকাল আমরা একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম যে এই কন্টেইনারে কি আছে ? আপনারা অনেকেই বলতে পেরেছেন আবার অনেকে বলতে পারেননি । অনেকেই বলেছেন যে এই কন্টেইনারে আছে তোকমা দানা , তিসি , মৌরি ,জিরা , সিয়া সিড ,আবার একজন বলেছে এইটা নাকি  গরুর মাংস ইত্যাদি কিন্তু অনেকে আবার সঠিক উত্তর ও দিয়েছেন এটা হচেছ ইসুবগুলের দানা।

ইসুবগুল কি ?

ইসুবগুল ‘গুল’ জাতীয় গাছ  । এর ফুল ছোট, পাপড়ি সূক্ষ হয়। বীজের খোসা আছে । ইসুবগুল গাছের উচ্চতা দেড় – দুই ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বীজ দেখতে নৌকার মতো এবং এর খোসা  পিচ্ছিল হয়  । এটা এক ধরনের রবি শস্য ।  হেমন্তকালে বীজ বপন করা হয় । চৈত্র মাসে ফসল তোলা হয়।

isub-gul ইসুব-গুল@chuijhal.com
ইসুবগুলের উপকারিতাঃ  

 

১. পেটের প্রায় সব ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ইসুবগুল হতে পারে খুব উপকারি ওষুধ। পেট ঠাণ্ডা রাখতে ইসুবগুল ও ভুসির ভূমিকা অনেক।

 

২. তাছাড়া পেট ব্যথা কমাতে   ইসুবগুল খেতে পারেন । এর মিউসিলেজিনাস ভূমিকার কারণে আলসারজনিত পেট ব্যথা কম মনে হয়  ।

 

৩. ইসুবগুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যামিনো এসিড রয়েছে । এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় । এক গ্লাস পানিতে চিনি বা গুড় মিশিয়ে খালি পেটে  ই খান। প্রতিদিন দুই থেকে তিন চা চামচ ইসুবগুল বা ইসুবগুলের ভুসি  এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দুই থেকে চারবার খেতে পারেন  , কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সমাধান পাবেন।

৪. আঁশসমৃদ্ধ খাবার ইসুবগুল । নিয়মিত ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। আমাশয় কিংবা অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। তাড়াতাড়ি   ফল পেতে দইয়ের সঙ্গে ইসুবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন।

৫. হজমের সমস্যায় ভুগলে   এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ইসুবগুল বা ইসুবগুলের ভুসি খেতে পারেন তাহলে খুব জলদি এ সমস্যার পাবেন।

৬. কোলেস্টেরল ও উচ্চ  রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ওজন কমাতে চাইলে ইসুবগুলের ভুসি খেতে পারেন । এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটা  দারুণ কার্যকরী হয়ে  থাকে।

৭. ডায়রিয়া উপশমে বেশ উপকারে আসে ইসুবগুল  ও এর ভুসি। এজন্য ৭-২০ গ্রাম ভুসি দিনে  দুই বার খাওয়া উচিৎ ।

৮. পাইলস রোগীদের জন্য এটি যাদুকরি ওষুধ । এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার ইসুবগুলের ভুসির শরবত খেতে পারেন তাহলে অনেক তাড়াতাড়ি  সমস্যার সমাধান পাবেন ।

৯.যেকোনো  ধরনের ইনফেকশন  ও  প্রস্রাব হলুদ হয়ে জ্বালাপোড়া হলে সকালে এ ক গ্লাস ও বিকেলে এক গ্লাস শরবতের সাথে  ইসুবগুল ও ইসবগুলের ভুসি খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া  বন্ধ হয়ে যায় ।

এটি এমনই একটি ভেষজ উপাদান  যার বহু মাত্রিক গুনাগুন আছে , যে কোন মানুষ এটি নিয়মিত খেলে অনেক উপকার পাবে। গরমের মধ্যে বা সারাদিন রোযা রেখে যদি ইসুবগুল খাওয়া যায় তাহলে শরীরে অনেক টাই প্রশান্তি আসে ।

 

Similar Posts

  • কিভাবে অপরাজিতার চা তৈরি করবেন?

    সকাল হোক বা  বিকেল, ব্যস্ততা কিংবা আড্ডা- এককাপ চা ছাড়া সবকিছুই যেন ঠিক জমেই না। তাই চা পান আমাদের করতেই হবে। আমরা অনেকেই আছি  দুধ চা আর রং চায়ের সাথে পরিচিত এবং এর  বাইরে মাঝে মাঝে হয়তো  আমরা গ্রিন টি খেয়ে থাকি তবে দুধ চা বা রং চা খাওয়া আমাদের অভ্যাস বলেই আমরা অন্য কোন…

  • কিসমিসের যত উপকারিতা

    আমাদের দেশে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরিতে কিশমিশ ব্যবহৃত হয়। তবে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না মহাগুণধর এই পণ্যটিকে। কিশমিশ নিয়ে আবার অনেকের ভুল ধারণাও রয়েছে। অথচ এটি আমাদরে শরীরের জন্য খুবই উপকারি উপাদান। তাই প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেই কিশমিশের গুণাগুণ। তবে ডা য়াবেটিস রোগীদের জন্য কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস...
  • তেজপাতার স্বাস্থ্য গুনাগুণ

    তেজপাতার ইংরেজি নাম-  Bay leaf এটা একধরনের অ্যাণ্টি- ইনফ্যাল্মটারী।তেজপাতা হচ্ছে  এক ধরনের সুগন্ধি মসলা এবং তেজ পাতা কাঁচা অবস্থায়  পাতার রং সবুজ। সবুজ পাতা শুনানো হলে তেজপাতার রঙ হয় বাদামি। তেজপাতায় রয়েছে ভিটামিন ‘E’ ও ‘C’।বহুকাল ধরেই তেজপাতা নিরাময়কারী ও ওষুধ ভেষজ পাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তেজপাতা কেবল খেলে বা ব্যবহার করলেই হবে না,…

  • নিয়মিত মাছ খাওয়ার উপকারিতা

    মাছ বাঙালির খুবই পছন্দের একটি খাদ্য। সব বয়সীদের জন্যই মাছ উপাদেয় ও সহজপাচ্য। তাই পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব সর্বাধিক। দামে তুলনামূলকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে ছোট মাছ, বড় মাছের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়। ছোট মাছ বলতে মূলত পুঁটি মাছ, কাঁচকি মাছ, মলা, ঢেলা, টেংরা, কৈ, মইলশা, শিং, পাবদা, বাটা, মেনি ইত্যাদিকেই…

  • ছোট মাছ খাওয়ার উপকারিতা

    আমাদের দেশে ছোট মাছ বা গুঁড়া মাছ বেশ জনপ্রিয় সকলের কাছে । ছোট মাছ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিতে ছোট নয়। পুষ্টিগুণের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, বড়, মাঝারি বা ছোট মাছে কোনো তফাৎ নেই।  আমাদের দেশে নানা ধরনের ছোট মাছ পাওয়া যায়। পুঁটি, ট্যাংরা, মলা, ঢেলা, কাচকি, ফলি ইত্যাদি মাছ  সবার কাছেই জনপ্রিয়। অনেক…

  • ফুসফুস সতেজ রাখতে যে ৫ খাবার খাবেন

    এখন  শীতকাল আর শীতের  আমেজ শুরু হয়েছে আর বাড়ছেও শীত। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ খুব  কমে যাওয়ায় ত্বকেও পানির অভাব অনুভূত হচ্ছে খুব ।শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে মিশে থাকা ক্ষতিকর কণাগুলি আমাদের  শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে থাকে। চিকিৎসকদের মতামতে, শুধু শুকনো কাশি নয়, শ্বাসনালির উপরে এবং নীচের অংশে আক্রান্ত জন্যও দায়ী এই দূষিত বায়ু। আমাদের স্বাস্থ্যের…