দারুচিনির শতগুণ

দারিচিনিকে আমরা সবাই মসলা হিসেবেই চিনে থাকি।আশ্চর্যের বিষয় হলো এতে রয়েছে প্রচুর বহুমুখী গুণাবলি।

দারুচিনি এইগ্রহের সবচেয়ে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেষজ। এর মিষ্টি স্বাদ এবং সুন্দর সুবাস জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে প্রায় প্রত্যেক সংস্কৃতির দ্বারা সম্মানিত হয়ে আসছে। দারুচিনিতে রক্তের শর্করার রোধক সহ উন্নত অসাধারণ ঔষধি গুণাবলী রয়েছে যা , প্রদাহ কমাতে এবং স্নায়বিক স্বাস্থ্য উন্নীত করতে সহায়তা করে। এছাড়াও সুগন্ধি মসলা হিসাবে দারুচিনি ব্যপকভাবে পরিচিত । শুধু রান্নায় গন্ধ বৃদ্ধি নয়, শরীর ও ত্বক উভয়ের জন্যই দারুচিনির ব্যবহার করা যায়। এর অনেক উপকারিতা রয়েছে । চলুন জেনে নেই দারুচিনি আমাদের শরীরের কি কি উপকারিতা সাধন করে থাকে।

 

১। অনেকেই জয়েন্টের সমস্যায় ভুগছেন। এক্ষেত্রে দারুচিনিকে জয়েন্টের ব্যথা কমানোর ঔষুধ হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। উষ্ণ গরম পানির মধ্যে এক চামচ মধু আর দারচিনি গুড়ো ভালভাবে মিশিয়ে নিন, এরপর শরীরের ব্যথা স্থানে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। ২-৩ দিন ভালভাবে মালিশ করুন। কিছুদিন পর দেখবেন ব্যথা কমে যাবে।

২। দারচিনি পেটের জন্য ভীষণ উপকারি। এটি অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে ও পেটের ব্যথা উপশম করে। পেট পরিষ্কার করতে, রাতে শোবার আগে, দারুচিনির সঙ্গে হরীতকীর গুঁড়া মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এসিডিটি রোধ করতে, মধুর সাথে দারুচিনি মিশিয়ে খেলে এসিডিটি ভালো হয়ে যায়।

৩। প্রতিদিন আধা চা চামচ দারুচিনির গুড়ো রক্তে খারাপ কোলস্টেরল এলডিএল এর মাত্রা কমায়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিষন্ত্রণ করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

৪। ঈস্ট ছত্রাক ঘটিত ইফেকশন প্রতিরোধ করতে দারুচিনির গুণাবলী চমৎকার ভাবে কাজ করে। হৃদরোগীদের জন্যেও দারুচিনি খুব উপকারী। এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

৫। দারুচিনি মারন ব্যাধি লিম্ফোসাইটিক লিউকোমিয়ার বিস্তার রোধ করে। রক্ত জমাট না বাঁধার অসুখ হিমোফিলিয়া প্রতিরোধ করতে দারুচিনি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৬। বাতের ব্যথা ও শরীরের হাড়ের ব্যথায় আধা চামচ দারুচিনির গুড়ো এক চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ব্যথা দূর হয়। তাছাড়া, দারুচিনি মিশ্রিত সরিষার তেল গায়ে মালিশ করলে ব্যথা ভালো হয়।

৭। ঠাণ্ডায় গলা ব্যথা বা খুশখুশে কাশিতে মধু চায়ের সাথে দারুচিনি মিশালে আরাম পাওয়া যায়।

৮। ত্বকের ঔজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধিতে দারুচিনি, দূর্বাঘাস ও হলুদ সমপরিমানে বেটে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ভালো। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রন রোধ করতে দারুচিনি উপকারী।

৯। নিয়মিত দারুচিনি খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

১০। আর্থারাইটিসের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা এক কাপ গরম জলের মধ্যে দু চামচ মধু আর দারচিনি গুড়ো মিশিয়ে সকাল সন্ধ্যা খেতে পারেন।

এছাড়া ও আর ও অনেক গুনাগুণ রয়েছে দারুচিনির।

Similar Posts

  • |

    ইসুবগুল

    ইসুবগুল গতকাল আমরা একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম যে এই কন্টেইনারে কি আছে ? আপনারা অনেকেই বলতে পেরেছেন আবার অনেকে বলতে পারেননি । অনেকেই বলেছেন যে এই কন্টেইনারে আছে তোকমা দানা , তিসি , মৌরি ,জিরা , সিয়া সিড ,আবার একজন বলেছে এইটা নাকি  গরুর মাংস ইত্যাদি কিন্তু অনেকে আবার সঠিক উত্তর ও দিয়েছেন এটা হচেছ…

  • দারুচিনির যত গুণ

    আজ আমাদের আলোচনার বিষয় দারুচিনির যত গুণ! দারুচিনি, এর ইংরেজি নাম: Cinnamon,এবং  বৈজ্ঞানিক নাম: Cinnamomus Zeylanicum) এটি  একটি মসলা গাছ এর  নাম। নরমাল  পরিবেশে এই গাছ এর  উচ্চতা দশ থেকে পনের মিটার পর্য্যন্ত হয়ে থাকে। এটি আদি বাসস্থান  শ্রীলংকায়। আজ কাল বেশির ভাগ  ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন প্রভৃতি দেশে ও উৎপাদিত হচ্ছে। দেখতে কিছুটা তেজপাতা গাছ  মতো, এই গাছ  চামড়াটা মসলা…

  • গুনে সমৃদ্ধ সবুজ এলাচ

      এলাচ বাংলাদেশে এলাচ না জন্মালেও আমাদের দেশের বাজারে সাধারণত দুই রকমের এলাচ মেলে – সবুজ ও কালো। এছাড়াও সাদা এলাচ পাওয়া যায় । এটি পৃথিবীর তৃতীয় মূল্যবান মশলা। দামের দিক দিয়ে জাফরান ও ভ্যানিলার পরেই এলাচের স্থান  । কৌষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বর কমানো , পেট ফাঁপা দূরীকরণ ছাড়াও এর আছে হরেক ভেষজ গুণ । উৎপত্তি…

  • |

    গুণে ভরা রসুন

    রসুন একটি মসলা জাতীয় খাদ্য উপাদান। রান্নার মসলা হিসেবে রসুনের ব্যবহার সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসছে। রান্নায় স্বাদকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু নয়, রসুনের পুষ্টিগুণ রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে মসলার অন্যতম তালিকার মধ্যে। তাই রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভাল রাখার ঔধষ হিসেবেও কাজ করে। অনেক বছর আগে থেকে রসুন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি...
  • |

    সরিষায় ভূত না ভুতে সরিষা!

    নানা ব্রান্ডের সরিষার তেলে নানা রকমের কেমিক্যাল!   কাকে রেখে কাকে বিশ্বাস করবেন? সরিষায় ভূত না ভুতে সরিষা!    আমি বলছিনা আমাদের বিশ্বাস করতেই হবে তবে আমরা চেষ্টা করি শতভাগ বিশুদ্ধ পণ্য সরবরাহ করতে।   কিভাবে তৈরি করিঃ পাইকারি বাজার থেকে সরিষা কিনে সেটা পরিষ্কার করে পানিতে ধুয়ে নেওয়া হয়। এর পর রোদে শুকিয়ে তেল…

  • স্বাদে-গুনে-পুস্টিতে ভরা গোলমরিচের নানা গুন

    গোলমরিচের আদিভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ। প্রাচীনকাল থেকেই খাদ্যে মসলা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লতাজাতীয় এ উদ্ভিদটির ফল শুকিয়ে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।   এ ফলের রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। এতে আছে ভিটামিন ‘এ’ ও ক্যালসিয়াম। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম গোলমরিচে আছে প্রোটিন ১১.৫ গ্রাম, ফ্যাট ৬.৮ গ্রাম, শর্করা ৮৯.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮৬০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৯৮…