সুস্থ থাকতে মেথির চা পান করুন

দিন শেষে আমাদের সকলের  একটাই প্রাথনা ,যেন আমরা সুস্থ থাকি । কিন্তু অনেক সময় আমাদের  শরীর ভিন্ন ভাষায় কথা বলে থাকে । অর্থাৎ আমরা অসুস্থ হয়ে পরি । এমনটি হলে আমাদের চিকিৎসা নিতে হয়, ওষুধ খেতে হয়। অথচ আমরা যদি আমাদের লাইফস্টাইলে কিছু চেঞ্জ  আনতে পারি তাহলে  সব সময় সুস্থ থাকা সম্ভব । দৈনিক চলাফেরার সাথে  খাদ্যের তালিকাতেও এ জন্য আনতে হবে কিছু ভিন্নতা ।

আজ আমরা এমন একটি খাবার নিয়ে আলোচনা করবো বা জানবো । তা হচ্ছে ‘মেথি’। অনেকেই ব্লতে পারেন  মেথি আবার কিভাবে খায়? এটা কি খাওয়া সম্ভব? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে মেথি শরীরের জন্য বেশ উপকারি একটি বস্তু ।

ভেষজ মসলা হিসেবে মেথি আমাদের সবার কাছেই কম বেশি  পরিচিত। তাছাড়া মেথি কিন্তু আপনার ওজন কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । শুধু ওজন কমানোর ক্ষেত্রেই নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ডায়াবেটিসের মতো অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথি ভুমিকা অনেক ।

শরীর ঠিক রাখতে ভেষজ উপাদানের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই কারও ।আমাদের সকলের  ছোট-বড় অসুখ থেকে দূরে থাকতে আমরা  নিয়মিত মেথি চা পান করতে পারেন। আজ আমরা

জেনে নিব  মেথি চায়ের উপকারিতা ও বানানোর পদ্ধতি-

উপকারিতা

– আমরা কি জানি ? ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা এবং পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় মেথি চা। তার  ফলে প্রতিদিন এই চায়ে চুমুক দেওয়া মানেই সুগার দূরে থাকবে আপনার থেকে।
-আমরা যদি  সকালে খালি পেটে এক কাপ মেথি চা মানেই হজম ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া। একই সাথে  ঝরবে মেদও।
– মেথিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে হজমের যাবতীয় সমস্যা নিমিষেই সমাধান করে । একই সাথে  মেথিতে থাকা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে অনেক । এবং  দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে ।
– প্রতিদিন সকালে আমরা যদি  মেথি চা পান করি তাহলে  কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে  । আর তাতে ধমনী ও শিরার চর্বি থাকতে পারে না। এতে রক্ত চলাচল ভালো হয়। আপনার হার্ট ও ভাল থাকবে ।
-যদি  নিয়মিত মেথি চা পান করেন তাহলে  পরিষ্কার থাকে কিডনিও। মেথির প্রভাবে ইউরিন ক্লিয়ার থাকে। কিডনিতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে । অনেক উপকারিতা এই মেথিতে।

 

যেভাবে বানাবেন মেথি চা
– প্রথমে ১  চা চামচ মেথি গুঁড়া করে নিন।
-এবার  ১  কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে গুঁড়া করা মেথি মিশিয়ে নিন ।
– ১  চা চামচ মধু বা  তুলসি পাতাও দিতে  পারেন।
– এখন সব উপকরণ দিয়ে ২-৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
– তারপর ছেঁকে পান করুন স্বাস্থ্যকর মেথি চা। সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত পান করতে পারেন ।

 

Similar Posts

  • গরমে কাঁচা আমের শরবত

    এই গরমে স্বস্তি এনে দিতে পারে  এক গ্লাস ঠাণ্ডা শরবত। এই সময়টা আমের। এখন বাজারে কাঁচা ও পাকা আম পাওয়া যায়।  তাই খুব সহজেই  কাঁচা আমের ঠাণ্ডা শরবত বানিয়ে নিতে পারেন । আমরা অনেকেই  আমের জুসে কেউ বা এটাকে শরবতও বলে থাকি । যে যা কিছুই বলুক, আমের শরবত দারুণ স্বাদ ও গুণে ভরপুর আমরা…

  • অপরাজিতা ফুলের চা খেলে কী হয়?

    সকাল বা বিকেল, ব্যস্ততা কিংবা আড্ডা আসরে – এককাপ চা ছাড়া সবকিছুই যেন পানসে লাগে । বেশির ভাগ সময়  আমরা দুধ চা আর রং চায়ের সাথে  পরিচিত। এর বাইরে অনেকেই  মাঝে মাঝে হয়তো গ্রিন টি নামক চা খাওয়া হয়। দুধ চা বা রং চায়ে অভ্যাস্ত বলেই আমরা অন্যান্য অনেক চা সম্পর্কে তেমন একটা জানি না।…

  • বাঙ্গির শরবত তৈরির রেসিপি

    বাঙ্গি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই পছন্দের ফল নয় । দেখতে খুব সুন্দর তবে খেতে তেমন সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকেই বাঙ্গির নাম শুনলে এড়িয়ে যান খেতে চায় না । কিন্তু আমরা কি জানি ?  অবহেলিত এই ফলেই আছে ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, আমিষ, ফলিক এসিড, পর্যাপ্ত পানি, ফ্যাটি এসিডের মতো  অনেক সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা উপকারী এই…

  • |

    কিউই আইসড টি

    কিউই আইসড টি কিউই একটি বিদেশী ফল যার পুষ্টি গুনাগুন অনেক বেশি ও খেতেও  অনেক সুস্বাদু । আমাদের দেশে এখন এর চাহিদা অনেক ।  কিউই শরবত বা  কিউই এর আইসক্রিম আমরা অনেকেই খেয়েছি   কিন্তু কিউই টি এইটা আমাদের জন্য একে বাড়েই নতুন । আজকে আমরা জানবো কিভাবে তৈরি করতে হয় এই কিউই আইসড টি ।…

  • | |

    অপরাজিতা চা

    অপরাজিতা চা রেসিপিঃ প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ১. ৫/৬ টি অপরাজিতা ফুল ২. দুই কাপ পানি ৩. দুই চা চামচ মধু বা চিনি ৪. এক চা চামচ লেবুর রস ৫. প্রয়োজনমতো পুদিনা পাতা ( অপশনাল) প্রস্তুত প্রণালীঃ হাড়িতে পানি দিয়ে ফুটতে দিতে হবে ৬-৭ মিনিট। বগল আসার পর অপরাজিতা ফুলগুলো ছেড়ে দিতে হবে। পানিতে নীল রঙ ছেড়ে…

  • ডাবের পানি ১১ রোগের ওষুধ

    ডাবের পানি খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা । একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শুধু গরমকাল নয়, সারা বছর যদি নিয়ম করে ডাবের পানি খাওয়া যায়, তাহলে একাধিক রোগ শরীরের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। শুধু তাই নয়, ডাবের পানি উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, মেঙ্গানিজ এবং জিঙ্ক নানাভাবে শরীরে…

Leave a Reply