কালোজিরার গুনাগুন

কালোজিরার গুনাগুন জানা খুব প্রয়োজন (কখন কিভাবে খাবেন)

কালোজিরা খুব পরিচিত একটি নাম। ছোট ছোট কালো দানাগুলোর মধ্যে সৃষ্টিকর্তা যে কী বিশাল ক্ষমতা নিহিত রেখেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। আসুন জেনে নেই কালোজিরার গুনাগুন।

প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: “ তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সর্বরোগের মুক্তি এতে রয়েছে”। সহীহ বুখারীঃ ১০/১২১

কালোজিরায় কি আছে

কালোজিরার মধ্যে রয়েছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বো-হাইড্রেট ছাড়াও জীবাণু নাশক বিভিন্ন উপাদানসমূহ।কালোজিরার রয়েছে ক্যন্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হরমোন, প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক।

কালিজিরার ভেষজ ব্যবহার

রুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালিজিরা সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কালিজিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী। কালোজিরা চূর্ণ ও ডালিমের খোসাচূর্ণ মিশ্রন, কালোজিরা তেল ডায়াবেটিসে উপকারী।

চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হয়, তেমনি মেদ ও বিগলিত হয়। মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।

জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালিজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়। কালিজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এই উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না।

কালোজিরার গুনাগুন

কালোজিরার গুনাগুন

১. সন্তান প্রসবের পর কাঁচা কালিজিরা পিষে খেলে শিশু দুধ খেতে পাবে বেশি পরিমাণে।

২. মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

৩. দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।

৪. কালিজিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে। কালিজিরা মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে।

৫. কালিজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক। দেহের কাটা ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে। নারীর ঋতুস্রাবজনীত সমস্যায় কালিজিরা বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৬. তিলের তেলের সাথে কালিজিরা বাঁটা বা কালিজিরার তেল মিশিয়ে ফোড়াতে লাগালে ফোড়ার উপশম হয়।

কালোজিরার যথাযথ ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি শক্তি অজির্ত হয়। এর তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপর্ন নিদ্রা হয়। প্রসূতির স্তনে দুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য, প্রসবোত্তর কালে কালিজিরা বাটা বা কালো জিরার আচার খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কালিজিরা খেলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে। প্রস্রাব বৃদ্ধির জন্য কালিজিরা খাওয়া হয়।  যেহেতু আপনি এখন জানেন কালোজিরার গুনাগুন তাই এখন থেকে নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস করুন।

Similar Posts

  • মশা তাড়ানোর উপায়

    মশা এক যন্ত্রণাদায়ক পতঙ্গের নাম। বিরক্তিকর উপদ্রবের পাশাপাশি মশা  রোগজীবাণু সংক্রামণ করে। মশা অনেক সময় মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ হয়ে থাকে। স্প্রে, কয়েল, অ্যারোসল কোন কিছুতেই মশা অনেক সময়  তাড়ানো সহজ না । আবার এসব দিয়ে মশা তাড়ালেও আমাদের স্বাস্থ্য এতে…

  • “ঘি” এর দশটি অসাধারন উপকারিতা

    আমাদের প্রচলিত ধারণা ঘি খেলে বুঝি মেদ বেড়ে যায় হু হু করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যদি দুবেলা ঘি-ভাত খান তাহলে আপনার ওজন বাড়বে না। এখন যদিও অনেকেই মোটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার চিন্তায় ঘি খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। তবু ঘিয়ের উপকারিতা অস্বীকার করা যায় না। আর ঘি বলতে এখানে অবশ্যই গাওয়া...
  • ব্যায়াম করার সঠিক সময় কখন? || ব্যায়াম করার সঠিক নিয়ম?

    ব্যায়াম করার সঠিক নিয়ম: কোথায় আছে ‘শরীর ফিট তো আপনি হিট’। আর সেজন্যই শরীরকে নিয়মিত ফিট রাখতে দরকার নিয়মিত শরীরচর্চার। সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপনের জন্য দরকার নিয়মিত শরীরচর্চার। তবে এই শরীরচর্চা ব্যায়াম যখন তখন করা উচিত না, শরীর সুন্দর ভাবে ঠিক রাখতে অবশ্যই সঠিক এবং উপযুক্ত সময়ে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা উচিত সবার জন্যই। তাই শরীর চর্চা কখন করবেন বা কখন ব্যায়াম করবেন সে বিষয়ে জেনে রাখা ভালো। আজকে আমরা শরীর চর্চার উপযুক্ত সময় এবং সঠিক শরীরচর্চার নিয়ম সম্পর্কে তুলে ধরবো। পৃথিবীর কে কোন বিশেষজ্ঞ সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আপনাকে শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম করা জরুরি বা অবশ্যম্ভাবী বলেই আখ্যায়িত করবেন। এক কথায় এর কোন বিকল্প নেই বললেই চলে। তবে হরহামেশাই ব্যায়াম বা শরীরচর্চার নিয়ম এবং উপযুক্ত সময় নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। অনেকেই হয়তো ইচ্ছা থাকলেও যথাযথ সময়ে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না তাই শরীরচর্চা করতে পারেন না আবার যখন সময় পান তখন ব্যায়াম করা ঠিক হবে কিনা তা বুঝে উঠতে পারেন না ঠিক করে। শুধু নিয়মিত শরীরচর্চা ব্যায়াম করলে যে শরীর সুস্থ থাকবে এটাও সম্পূর্ণ ঠিক না, কোন সময় ব্যায়াম করবেন বা কোন সময় ব্যায়াম করা ভালো এবং ব্যায়াম করার সঠিক নিয়ম কী সে বিষয়ে এজন্য ভালো করে জেনে রাখা উচিত।   কোন সময় ব্যায়াম করা ভালো আর কোন সময় ব্যায়াম করা ঠিক নয় সে বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞের মতামত আপনাদের জন্য নিচে তুলে ধরছি: দীর্ঘ রাত্রি গভীর ঘুমের পর সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ঘুমের পর সকালের ব্যায়াম সারাদিন আপনাকে ফুরফুরে রাখতে অনেকটাই সাহায্য করবে।   এছাড়া সকালে ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে সন্ধ্যার আগে ঠিক বিকেল বেলা ব্যায়াম করার জন্য উপযুক্ত সময়। যেহেতু ব্যায়াম করলে শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জাতীয় পদার্থ এবং ঘাম ঝরে তাই নরম আবহাওয়াতে ব্যায়াম করা ভালো।  ভর দুপুর বেলা অতিরিক্ত গরমে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা না করাই ভালো, এ সময়ে সহজেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে,তাই এ সময় ব্যায়াম না করাই ভালো। যারা মোটামুটি সারাদিন অবসরে থাকেন বা বাড়িতে অবসর সময় কাটান তারা চাইলেই যেকোনো সময় ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করতে পারেন নিজের সুবিধা অসুবিধা মত। যারা চাকুরীজীবী বা ব্যস্ত বা নিয়মিত রুটিন সিডিউল এর কারণে সারা দিন সময় করে উঠতে পারেন না, তারা চাইলে রাখতে ব্যায়াম করতে পারেন এতে কোন সমস্যা নেই বললেই চলে।  ব্যায়াম করার সময়ে অনেক বেশি পরিমাণে খাওয়া একদম ঠিক না, তাই যখন ব্যায়াম করবেন তখন কিছু হালকা খাবার যেমন একটি বিস্কিট এবং 1 টি কলা খেয়ে ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায়। যারা সকালে ব্যায়াম করেন তাদের অনেকেই আছেন যারা সকালে ব্যায়াম শেষে পরপর ভরপেট খেয়ে বাসায় ফেরেন এতে ব্যায়াম করে যতটুকু উপকারিতা তার সবটুকু নষ্ট হয়। যারা মোটামুটি নিয়মিত ব্যায়াম করেন বেশি দিনের অবসর সম্ভব না সে সময় তাদের প্রতিদিনের খাবারের দিকে নজর রাখা উচিত। কোথাও ঘুরাঘুরি করতে গেলে বেশি দিনের জন্য সুযোগ মতো টুকটাক ব্যায়াম করা চালিয়ে যাওয়া উচিত। মোটামুটি যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের জন্য ব্যায়াম করার আগে বা ব্যায়াম করার ঠিক পরপরই বেশি পরিমাণে পানি খাওয়া একদমই ঠিক না। নিয়মিত শরীরচর্চা ব্যায়াম এর পর কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে তারপর পানি খেতে হয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে যতটুকু পারেন মিষ্টি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড ইত্যাদি খাবার বাত্রা খাই অনেক ভালো। কারণ এসব খাবার খেলে আপনার ব্যায়াম এর কোনো উপকারিতা আপনি বুঝতে বা দেখতে পাবেন না সবটাই বৃথা হবে। আপনি যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে শরীরচর্চা ব্যায়াম করার কোন প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া কোনো রকম শরীরচর্চা ব্যায়াম না করাই মঙ্গল। যেকোনো ধরনের ব্যায়াম শরীরচর্চা বা রেগুলার ডায়েট করার জন্য অবশ্যই রেজিস্টার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তার পরামর্শ অনুযায়ী দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা সাজানো বা দৈনন্দিন শরীরচর্চা ব্যায়াম এর পরিকল্পনা করা উচিত।  

  • |

    মিশরের ফারাও নারীদের পছন্দ আচার!

    আচার কথা টা শুনতে বেশ লোভনীয় হলে ও ব্যাপারটা কিন্তু মুখরোচক । এই  বিষয়ে কোন কিছু লেখা বা পড়া শুরু করলে জিভ এ জল আসবে না তেমন টা কিন্তু না।তাই কোন কিছু শুরু করার আগে নিজের মতো করে দুটো লাইন বললে কেমন হয়ঃ ‘’আচার তুমি সবার মুখে পানসে পানসে জল মুখের ভেতর ধরা দিলে টক-মিষ্টি...
  • প্রতিদিন মাস্ক পরিষ্কার করবেন যেভাবে

    করোনাভা’ইরা’সের তাণ্ডবে দিশেহারা মানুষ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাই’রাস ছড়ানো ও সংক্র’মণ রোধ করতে মাস্ক পরার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশেও মাস্ক পরা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ফলে করোনাভাই’রাস প্রতিরোধে এখন প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রতিদিন নতুন নতুন মাস্ক পড়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে পরিষ্কার করে একই মাস্ক বারবার পরছেন অধিকাংশ মানুষ।…

  • রসুনের নানা উপকারিতা

    রসুনের গুন তুলনা করতেই কোন শব্দ পাওয়া মুশকিল । একে ওষুধের মহা ওষুধ বললেও ভুল হবে না ।  নানা বয়সের মানুষের কাছে এই মহা ওষুধ রসুন এর উপকার গুলো তুলেই ধরতে হবে ।কতটা লাভবান হন তারা, জানলে আপনিও চেষ্টা করবেন হাঁটবেন এই পথেই কারন এর উপকারিতা এমন কাজ করবেই।  রসুনের নানা উপকারিতা আজকের সেই চিকিৎসাবিজ্ঞান…

Leave a Reply