তেজপাতার স্বাস্থ্য গুনাগুণ

তেজপাতার ইংরেজি নাম-  Bay leaf এটা একধরনের অ্যাণ্টি- ইনফ্যাল্মটারী।তেজপাতা হচ্ছে  এক ধরনের সুগন্ধি মসলা এবং তেজ পাতা কাঁচা অবস্থায়  পাতার রং সবুজ। সবুজ পাতা শুনানো হলে তেজপাতার রঙ হয় বাদামি।

তেজপাতায় রয়েছে ভিটামিন ‘E’ ও ‘C’।বহুকাল ধরেই তেজপাতা নিরাময়কারী ও ওষুধ ভেষজ পাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তেজপাতা কেবল খেলে বা ব্যবহার করলেই হবে না, পোড়ালেও উপকার পাওয়া যায় বহুগুণ । প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা তেজপাতাকে  পবিত্র ওষুধ বলত। তেজপাতা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত করা হতো। বিশ্বের অনেকেই তেজপাতা মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

স্বাস্থ্যগুণ

 

১) হজমশক্তি বাড়ায়:

তেজপাতা শরীরের হজমশক্তি বাড়াতে দ্রুত কাজ করে থাকে। পেটফাঁপা, বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া ইত্যাদির চিকিৎসায় তেজপাতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

 

২) সর্দিকাশি বা ফ্লু এড়াতে:

সর্দিকাশি, কফ এবং ফ্লু থেকে মুক্তি পেতে তেজপাতা সেদ্ধ করে পানি খেলে খুব সহজেই সমস্যা সমাধান পাওয়া সম্ভব হয়।

 

 

৩) ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং কিডনিতে পাথর হওয়া রুখতে:

তেজপাতা পানিতে সেদ্ধ করে খেলে কিডনির বিভিন্ন প্রদাহ রুখতে উপকার মিলবে। যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা আছে তারাও যদি তেজপাতা পানিতে সেদ্ধ করে খেলে বেশ উপকার পাবেন।

 

৪) হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে:

তেজপাতার মাধ্যমে ঝালভাব আনা স্বাস্থ্যকর রান্নার পদগুলো খাওয়ার মাধ্যমে কমতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি। কারণ তেজপাতায় থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপদান স্বাস্থ্য এবং হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে।

 

সৌন্দর্যবর্ধক গুণাবলী

 

১) তরুণ্যদীপ্ত ত্বক ধরে রাখতে:

 

যাদের ত্বকে বলিরেখা আছে তারা যদি ঘরে সহজেই ‘অ্যান্টি-এইজিং সলিউশন’ বানাতে চাইলে তেজপাতা ভেজানো ফুটন্ত পানির বাষ্প মুখে লাগায় এতে করে ত্বকের বলিরেখা দূর হবে সহজে।

 

২) শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে:

 

বিলাশবহুল এবং সুগন্ধিযুক্ত গোসলের জন্য অনেক  টাকা খরচ করার দরকার নেই। বরং এক টুকরা পরিষ্কার কাপড়ে গুঁড়া তেজপাতা কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়  ডুবিয়ে রেখে, এই পানি দিয়ে গোসল করতে পারেনএতে করে শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করবে।

 

৩)ত্বক ও দাঁত উজ্জ্বল করতে:

প্রথমে তেজপাতাকে  সেদ্ধ করুন পড়ে  ঠাণ্ডা হলে তা দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ত্বক ফর্সা করার পাশাপাশি এই মিশ্রণ ব্রণ শুকাতেও সাহায্য করবে। ঝলমলে  দাঁত পেতে সপ্তাহে ৩-৪ দিন দাঁতে তেজপাতা ঘষা যেতে পারে এতে করে দাঁত হবে উজ্জ্বল।

 

৪) খুশকি এবং চুলপড়া কমাতে:

যাদের চুলে খুশকির সমস্যা আছে তারা তেজপাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে চুল ধুলে খুশকি কমে অনেক টা ও চুলপড়া বন্ধ করতেও সাহায্য ও করে । চুল কমে যাওয়ার স্থানগুলোতে তেজপাতার এসেনসিয়াল তেল  মাখতে পারেন এতে করে নতুন চুল গজাবে।

 

 

Similar Posts

  • নিয়মিত মাছ খাওয়ার উপকারিতা

    মাছ বাঙালির খুবই পছন্দের একটি খাদ্য। সব বয়সীদের জন্যই মাছ উপাদেয় ও সহজপাচ্য। তাই পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব সর্বাধিক। দামে তুলনামূলকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে ছোট মাছ, বড় মাছের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়। ছোট মাছ বলতে মূলত পুঁটি মাছ, কাঁচকি মাছ, মলা, ঢেলা, টেংরা, কৈ, মইলশা, শিং, পাবদা, বাটা, মেনি ইত্যাদিকেই…

  • লেবুর শরবতের উপকারিতা

    শরবত শব্দটির কথা মনে এলেই যে সবজিটির কথা সর্বপ্রথম মনে পড়ে তা হলো লেবু । আমাদের খাবারের টেবিলে লেবু একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি। যদিও প্রাত্যহিক জীবনে আমরা সকলেই কমবেশি লেবু খেয়ে থাকি। কিন্তু লেবুর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের কমবেশি জানা দরকার। লেবুতে থাকে প্রচুর পুষ্টিগুণ। লেবুর উপকারি উপাদান আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। শুধুমাত্র খাবারের…

  • এখন চামচ বলে দেবে কত টা সুস্থ আপনার ফুসফুস আর কিডনি…?

    মানুষের পেটের সমস্যা বা ফুসফুসের সমস্যা কোনো বিরল রোগ নয়। তবুও এই রোগগুলো অবহেলা করতে করতেই এক সময় বড় রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। সময়ের অভাবে এই রোগগুলো নির্ণয়ে পরীক্ষা করাও হয়ে ওঠে না। কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতিতেই পরীক্ষা করতে পারেন যে, আপনার পেট বা ফুসফুসে সমস্যা রয়েছে কিনা। এমন তথ্যই জানা গেছে, ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন…

  • নিমে নিরাময় ২২টি রোগের!

    নিম  প্রায় সবার কাছে পরিচিত গাছ। বিশেষ করে গ্রাম-বাংলায় নিম গাছ বেশি দেখা যায়। ভেষজ চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার বহুল। নিম গাছের ভয়ে এইডস্ কাঁপে  – হ্যাঁ কথাটি ঠিকই পড়ছেন, নিম পাতা এইডস্ এর ভাইরাসকে মেরে ফেলতে অনেক সাহায্য করে থাকে। যদি বাড়িতে একটি নিমগাছ থাকে একজন ডাক্তারের চেয়ে ও বেশী কাজ করে। নিম (বৈজ্ঞানিক নাম: AZADIRACHTA INDICA) ঔষধি গাছ যার ডাল, পাতা, রস, ফুল, ফল, তেল, বাকল, শিকড় সবই উপকারী। নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ। আকৃতিতে ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ডাল ২০-৩০ ইঞ্চি ব্যাস হতে পারে। ডালের চারদিকে ১০-১২ ইঞ্চি যৌগিক পাতা জন্মে। পত্র কাস্তের মত বাকানো থাকে এবং পাতায় ১০-২০ টি করে কিনারা খাঁজকাটা পত্রক থাকে। পাতা ২.৫-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। নিম গাছে এক ধরনের ফল হয়। আঙুরের মতো দেখতে এ ফলের একটিই বিচি থাকে। জুন-জুলাইতে ফল পাকে, ফল তেতো স্বাদের। বাংলাদেশের সবত্রই জন্মে তবে উত্তরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিমপাতার অসাধারণ গুনাবলী নিমগাছের বাকল ও শিকড় ঔষধি গুণসম্পন্ন। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। চামড়ার ইনফেকশন রোধে এছাড়া ব্রুণ, চুলকানি ও এলার্জি রোধে নিমপাতা অনেক উপকারি। এছাড়া শরীরের ব্যাথা, কান ব্যাথা, কেঁটে গেলে, পুড়ে গেলে, মচকানো, মাথা ব্যাথা, জ্বর কমাতে নিমপাতা ব্যবহার করলে  উপকার পাওয়া যায়। নিমে যে ২২টি রোগের নিরাময় হয়: ১. খোস পাচড়া বা চুলকানি নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই জল দিয়ে স্নান করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়। পাতা ভেজে গুড়া করে সরিষার তেলের সাথে মিষিয়ে চুলকানিতে লাগালে যাদুর মতো কাজ…

  • মাইগ্রেইন সমস্যা ও সমাধান

    মাইগ্রেইন সমস্যা ও সমাধান মাইগ্রেন একধরনের মাথাব্যথা। মাথার একদিকে হয় বলে বিখ্যাত হলেও দুদিকেও হতে দেখা গেছে। যাদের মাইগ্রেন হবার প্রবণতা আছে, তাদের শব্দ, আলো, গন্ধ, বাতাসের চাপের তারতম্য ও কিছু খাবার যেমন চকলেট, আঙুরের রস, পনির ইত্যদির প্রভাবে পুনরায় নতুন করে ভয়ঙ্কর মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। তবে মাইগ্রেনে শুধু মাথাব্যথাই হয় না, তার সঙ্গে…

  • ছোট মাছ খাওয়ার উপকারিতা

    আমাদের দেশে ছোট মাছ বা গুঁড়া মাছ বেশ জনপ্রিয় সকলের কাছে । ছোট মাছ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিতে ছোট নয়। পুষ্টিগুণের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, বড়, মাঝারি বা ছোট মাছে কোনো তফাৎ নেই।  আমাদের দেশে নানা ধরনের ছোট মাছ পাওয়া যায়। পুঁটি, ট্যাংরা, মলা, ঢেলা, কাচকি, ফলি ইত্যাদি মাছ  সবার কাছেই জনপ্রিয়। অনেক…

Leave a Reply